“শূন্য পাবে বিজেপি!”— শাহের খতিয়ানকে ‘দিবাস্বপ্ন’ তকমা দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূল সেনাপতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা মিটতে না মিটতেই শুরু হয়ে গেল পরিসংখ্যানের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন দাবি করলেন যে বিজেপি প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিতেই জয় নিশ্চিত করেছে, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহের এই ‘সেঞ্চুরি পার’ করার দাবিকে স্রেফ হেসেই উড়িয়ে দিলেন তিনি।

শাহের দাবি বনাম অভিষেকের পাল্টা আক্রমণ

অমিত শাহ আজ উত্তরবঙ্গ থেকে দাবি করেছিলেন, প্রথম দফায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন এবং ১১০টি আসনে জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। এর জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

  • “পুরোটাই জুমলা”: অভিষেক দাবি করেন, ২০২১ সালেও শাহ একইভাবে ২০০ পার করার দাবি করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৭-এ থমকে গিয়েছিলেন। এবারও তিনি সেই একই ‘জুমলা’ বা মিথ্যে পরিসংখ্যান দিচ্ছেন।

  • বিজেপির পতন নিশ্চিত: অভিষেকের পাল্টা দাবি, প্রথম দফার ভোট হওয়া এলাকাগুলিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বেড়েছে। তাঁর মতে, বিজেপি এবার ডবল ডিজিট (দুই সংখ্যা) পার করতেই হিমশিম খাবে।

  • এজেন্সি বনাম জনগন: শাহের হুমকির জবাবে অভিষেক বলেন, “যাঁদের কোনো জনভিত্তি নেই, তাঁরাই ইডি-সিবিআই আর মনগড়া সংখ্যার ওপর ভরসা করেন। ৪ মে মানুষই বুঝিয়ে দেবেন কার দম্ভ চূর্ণ হয়েছে।”

পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে উত্তাল রাজ্য

প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে। শাহের দাবি অনুযায়ী বিজেপি যদি ১১০টি আসন পায়, তবে তারা ম্যাজিক ফিগার (১৪৮)-এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, গ্রামীণ বাংলা এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অংশে এবার তৃণমূলের পালে হাওয়া বেশি।

কেন এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোটের আগে ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতেই দুই পক্ষ এমন বড় বড় দাবি করছে। শাহ চাইছেন দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে, আর অভিষেক চাইছেন বিজেপির সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে।