ভোটের মুখে ‘যাদবপুর’ অস্ত্র মমতার! মোদীকে লেখা খোলা চিঠিতে কেন তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন নেত্রী?

প্রথম দফার ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়ল কয়েক গুণ। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) খোলা চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইস্যু— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব এবং তার ছাত্রছাত্রীদের প্রতি কেন্দ্রের ‘অবমাননাকর’ মনোভাব। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলের এই চিঠি ঘিরে নবান্ন থেকে দিল্লি, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
চিঠিতে কী লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
সুদীপ্ত বিশ্বাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। চিঠির মূল বক্তব্যগুলি হলো:
-
মেধার অপমান: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ যেভাবে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের ‘দেশবিরোধী’ বা ‘অশৃঙ্খল’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা।
-
স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ: ইউজিসি (UGC) এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রের ক্রমাগত হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
-
বাংলার সংস্কৃতিতে আঘাত: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, যাদবপুর কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি বাংলার মেধা ও প্রগতির প্রতীক। একে কালিমালিপ্ত করা মানে গোটা বাংলাকে অপমান করা।
রাজনৈতিক উত্তাপের নেপথ্যে কী?
সম্প্রতি বিজেপির জনসভাগুলি থেকে যাদবপুরের পরিবেশ এবং ছাত্র আন্দোলন নিয়ে একাধিকবার আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছিল। এমনকি কেন্দ্রীয় অনুদান সংক্রান্ত বিষয়েও কিছু কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে নির্বাচনী হাতিয়ার করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিজেপি বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করতে চাইছে।
নির্বাচনী প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার শিক্ষিত এবং তরুণ ভোটারদের মন পেতেই মমতার এই ‘খোলা চিঠি’ কৌশল। বিশেষ করে যেখানে শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বড় ইস্যু, সেখানে যাদবপুরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ছাত্র ও শিক্ষক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছেন।