বিপুল ভোটই কি জয়ের চাবিকাঠি? প্রথম দফার ভোট মিটতেই বিজেপির ‘বিসর্জন’ নিয়ে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

প্রথম দফার ভোটে ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানকে ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’-এর লক্ষণ হিসেবে দেখছে বিজেপি। ঠিক সেই সময়েই আসরে নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম দফার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিষেক শুরুতে বলেন, “আমি কোনো জ্যোতিষী নই যে এখনই সিট সংখ্যা বলে দেব, কাজটা মানুষের।” কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর কথায় ধরা পড়ল জয়ের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা।

কী বললেন অভিষেক? বিজেপির জয়ের দাবিকে নস্যাৎ করে অভিষেক বলেন, “প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে সিংহভাগ আসনেই মানুষ মমতাময়ীর আঁচলে ভরসা রেখেছেন। মা-বোনেদের যে লাইন আমরা বুথে বুথে দেখেছি, তা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং উন্নয়নের জয় নিশ্চিত করেছে। সংখ্যাটা আমি বলব না, সেটা ২ মে ইভিএম খুললেই সবাই দেখবে। তবে এটুকু বলতে পারি, বিরোধীদের জামানত জব্দ হওয়ার পালা শুরু হয়ে গিয়েছে।”

বিজেপির প্রতি কটাক্ষ: ভোটের দিন অশান্তির অভিযোগ নিয়ে বিজেপিকে পালটা তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “যাঁরা হার নিশ্চিত বোঝেন, তাঁরাই ইভিএম বদল বা মারধরের গল্প সাজান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট হয়েছে, তারপরেও পরাজয় বুঝতে পেরে এখন নাটকের আশ্রয় নিচ্ছে বিজেপি।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রথম দফাতেই তৃণমূল এমন লিড পাবে যা পরের দফার লড়াইকে অনেক সহজ করে দেবে।

বিশ্লেষকদের নজরে অভিষেকের আত্মবিশ্বাস: রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সংখ্যা না বললেও যেভাবে ‘সিংহভাগ’ আসনের দাবি করেছেন, তা নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও বীরভূমের মতো জায়গায় যেখানে গতবার বিজেপি কড়া টক্কর দিয়েছিল, সেখানে এবার তৃণমূল কতটা জমি উদ্ধার করতে পারল, সেটাই এখন দেখার।

উপসংহার: অভিষেকের এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’র পালটা দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “অভিষেকবাবু জানেন হার নিশ্চিত, তাই কর্মীদের ধরে রাখতে এই দিবাস্বপ্ন দেখছেন।” সব মিলিয়ে প্রথম দফার লড়াই এখন মাঠ ছেড়ে ঢুকে পড়েছে দুই শিবিরের অংক আর দাবি-পালটা দাবির টেবিলে।