মশা তাড়ানোর কয়েলেই কাল হলো! ঘুমের ঘোরে জ্যান্ত পুড়ে মরলেন বৃদ্ধ, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

অন্ধ্রপ্রদেশের পালানাডু জেলায় এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাত্তেনাপল্লি মণ্ডলের কান্তেপুরি গ্রামে গত রাতে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে নাগেশ্বর রাও নামে এক ব্যক্তির। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা মনে হলেও, বেশ কিছু পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, নাগেশ্বর রাও তাঁর স্ত্রী রাজায়াম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথেই থাকতেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর মেয়ে সারিকা রানী তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ঘটনার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। নাগেশ্বর রাও তাঁর ঘরে মশা তাড়ানোর একটি কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলেন।

মৃত্যুর ভয়াবহ মুহূর্ত
মধ্যরাতের দিকে হঠাৎই নাগেশ্বরের বিছানায় আগুন লেগে যায়। তুলা ও কাপড়ের সংস্পর্শে এসে আগুন দ্রুত ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশের ঘরে থাকা তাঁর স্ত্রী রাজয়ম আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখে চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি ছুটে এলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতায় নাগেশ্বরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিছানাতেই গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

রহস্য দানা বাঁধছে যেখানে
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশি তদন্তে কয়েকটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে:

মশা তাড়ানোর কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও, আগুন লাগার সময় নাগেশ্বর রাও কেন ঘর থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলেন না?

আগুন কি এতটাই তীব্র ছিল যে পালানোর সুযোগই মেলেনি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে?

ঘরে কোনো দাহ্য বস্তু ছিল কি না, যা আগুনকে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে?

পুলিশি তৎপরতা
পুলিশ বাড়িটি এবং আশপাশের এলাকা সিল করে দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে যে এটি স্রেফ একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র লপ্ত রয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। আপাতত শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো কান্তেপুরি গ্রামে।