পাঞ্জাবের স্কুলে এবার ফিনিশ ম্যাজিক! ৩০০ শিক্ষক যাচ্ছেন ফিনল্যান্ড, বদলে যাবে পড়াশোনার ধরন?

পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলগুলোতে এবার বইয়ের পাতার চেয়ে গুরুত্ব পাবে খেলার মাঠ আর আধুনিক বিশ্বের উন্নত পাঠদান পদ্ধতি। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ফিনল্যান্ডের তুরকু বিশ্ববিদ্যালয় (University of Turku)-এর সাথে এক মেগা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব সরকার।
‘টিচার্স ট্রেনিং’ থেকে ‘গ্লোবাল এক্সপার্ট’: কী আছে এই পরিকল্পনায়?
পাঞ্জাব সরকারের এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (Train the Trainers) মডেল। ফিনল্যান্ড সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান স্বয়ং সেখানকার ‘কুকুলো-মোইকোইনেন’ প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, বিশ্বমানের শিক্ষা পদ্ধতিকে পাঞ্জাবের স্থানীয় শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে দেওয়াই তার সরকারের লক্ষ্য।
প্রকল্পের প্রধান দিকগুলো হলো:
৩০০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ: ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে চারটি ব্যাচে মোট ৩০০ জন শিক্ষককে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
চণ্ডীগড় টু ফিনল্যান্ড: প্রশিক্ষণ সেশনগুলো চণ্ডীগড় ছাড়াও ফিনল্যান্ডের তুরকু ও রাউমা শহরে আয়োজিত হচ্ছে। এতে থাকছে কর্মশালা এবং সরাসরি স্কুল পরিদর্শনের সুযোগ।
মাস্টার ট্রেইনার তৈরি: এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ফিরে এসে রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষকদের মেন্টর হিসেবে গাইড করবেন।
খেলার ছলে শিক্ষা: শিশু-কেন্দ্রিক নতুন পাঠ্যক্রম
মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়, বরং পাঞ্জাবের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এখন থেকে রাজ্যের স্কুলগুলোতে ‘চাইল্ড সেন্ট্রিক’ বা শিশু-কেন্দ্রিক এবং ‘প্লে-বেসড’ বা খেলা-ভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
“আমরা বিদেশের মডেল হুবহু চাপিয়ে দিচ্ছি না, বরং ফিনিশ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আমাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করছি।” — ভগবন্ত মান, মুখ্যমন্ত্রী, পাঞ্জাব।
মাঠপর্যায়ে মিলছে সুফল
ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নতুন পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার এবং আগ্রহ দুই-ই বেড়েছে। শিক্ষকরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং বিভিন্ন ধরনের শিখন চাহিদার সাথে পাঠকে মানিয়ে নিতে পারছেন।
ডিজিটাল বিপ্লবের পথে পাঞ্জাব
ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে আরও ছড়িয়ে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ‘হাইব্রিড লার্নিং’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এর ফলে ঘরে বসেই শিক্ষকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পেশাগত প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারবেন। ফিনল্যান্ডের আদলে পাঞ্জাবকে দেশের ‘শিক্ষা হাব’ হিসেবে গড়ে তোলাই এখন আপ সরকারের প্রধান লক্ষ্য।