গ্যাস সিলিন্ডারের হাহাকার! ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে এলপিজি সংকট; গৃহিণীদের তুরুপের তাস এখন ইন্ডাকশন

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল ভারতীয় হেঁশেলে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলপিজি (LPG) সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে গ্যাস সংকট। আর এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে মুশকিল আসান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইন্ডাকশন স্টোভ।

বিকল্প নয়, এখন অপরিহার্য
একটা সময় ছিল যখন ইন্ডাকশন কুকটপকে কেবল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমান গ্যাস সংকট এবং এলপিজি-র অনিশ্চয়তার জেরে এটি এখন প্রতিটি রান্নাঘরের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ধোঁয়া-ঝঞ্ঝাটহীন এবং দ্রুত রান্নার সুবিধার কারণে শহর তো বটেই, গ্রামেও এর চাহিদা তুঙ্গে।

উৎপাদনে রেকর্ড বৃদ্ধি: ১০০% লাফ দিল কোম্পানিগুলো
চাহিদার কথা মাথায় রেখে উৎপাদক সংস্থাগুলোও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। কেডব্লিউ ইলেক্ট্রিকস (KW Electrics)-এর পরিচালক নীতীশ খৈতান জানিয়েছেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগে যেখানে মাসে ১ লক্ষ ইউনিট উৎপাদন করা হতো, বর্তমান সংকটের জেরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষে। অর্থাৎ, চাহিদার চাপে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ শতাংশের বেশি! অটোমেশন এবং বাড়তি জনবল নিয়োগ করে বাজারের এই অভাব মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কোম্পানিগুলো।

কাঁচামালের জেরে দামও ঊর্ধ্বমুখী
তবে চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও। প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইন্ডাকশন স্টোভের দামও প্রায় ১০-১২% বৃদ্ধি পেয়েছে। যা মধ্যবিত্তের পকেটে কিছুটা টান ফেলছে।

সরকারের কাছে ভর্তুকির আর্জি
শিল্প সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর দাবি, রান্নার এই বৈদ্যুতিক বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।

ভর্তুকির দাবি: বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) বা সৌরশক্তির মতো ইন্ডাকশন স্টোভেও ভর্তুকি দেওয়া হোক।

GST হ্রাস: জিএসটি কমানো হলে এই স্টোভগুলো সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে এবং এলপিজি-র ওপর নির্ভরতা কমবে।

কেন ঝুঁকছে মানুষ?
মূলত তিনটি কারণে বদলে যাচ্ছে রান্নার ধরন:
১. গ্যাস সংকট: এলপিজি-র অনিয়মিত সরবরাহ।
২. সাশ্রয়: বিদ্যুতের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ রান্নার সুযোগ।
৩. পরিবর্তিত জীবনযাত্রা: দ্রুত ও আধুনিক জীবনযাপনের সাথে ইন্ডাকশন অনেক বেশি মানানসই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ও শিল্পখাত একজোট হয়ে কাজ করলে এলপিজি-র এই বিকল্প পদ্ধতিই হবে আগামী দিনের স্মার্ট কিচেনের ভবিষ্যৎ।