গোরখপুরে খামারবাড়ির ভেতর রক্তারক্তি! নিজের লাইসেন্স করা পিস্তলে বুক ঝাঝরা করলেন হেভিওয়েট ব্যবসায়ী, কারণ কী?

আজ সকালে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। শহরের সুপরিচিত ব্যবসায়ী অতুল শ্রীবাস্তবের ৪০ বছর বয়সী পুত্র অমরীশ শ্রীবাস্তব নিজের খামারবাড়িতে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার।

ঠিক কী ঘটেছিল আজ সকালে?
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা নাগাদ অমরীশ তাঁর ব্যক্তিগত ফরচুনার গাড়িতে করে কুসমি এলাকার খামারবাড়িতে পৌঁছান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ফোনে কারোর সাথে কথা বলতে বলতে ওপরতলার গুদামের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণ পরেই একটি বিকট গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে খামারবাড়িটি। আতঙ্কিত কর্মীরা দ্রুত ওপরে গিয়ে দেখেন, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন অমরীশ। তাঁর হাতে তখনও ধরা ছিল লাইসেন্স করা পিস্তল। মুখ ফুঁড়ে বেরিয়ে যাওয়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

তদন্তে হেভিওয়েট পুলিশ কর্মকর্তারা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসএসপি ডঃ কৌস্তুভ এবং এসপি সিটি নিমিশ পাতিল। পুলিশের সঙ্গে একটি ফরেনসিক দলও পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে অমরীশ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তাঁর মোবাইলের কল ডিটেইলস (CDR) এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করছে পুলিশ।

কে ছিলেন এই অমরীশ শ্রীবাস্তব?
গোরখপুরের উচ্চবিত্ত মহলে অমরীশ ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তাঁর বাবা অতুল শ্রীবাস্তব ‘একে টেন্ট হাউস’-এর মালিক এবং চিত্রগুপ্ত মন্দিরের সভাপতি। অমরীশ নিজেও সম্প্রতি ওই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ এবং ভিভিআইপিদের বিভিন্ন বড় অনুষ্ঠানে তাঁর সংস্থার তাঁবু ব্যবহৃত হতো। ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি একটি সুখী পরিবারের কর্তাও ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে বিয়ে করা অমরীশের দুই সন্তান রয়েছে।

ব্যক্তিগত কোনো টানাপোড়েন নাকি ব্যবসার কোনো গোপন চাপ তাঁর এই অকালমৃত্যুর কারণ? সেই রহস্যের জট খুলতেই এখন তদন্ত চালাচ্ছে গোরখপুর পুলিশ।