বিশ্রামের সময় হার্ট রেট কত? আপনার হৃদপিণ্ডের এই একটি সংখ্যাই বলে দেবে আপনি কতদিন বাঁচবেন!

আমরা যখন একদম শান্ত হয়ে বসে থাকি বা ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর যখন পূর্ণ বিশ্রামে থাকে, তখন প্রতি মিনিটে হৃদপিণ্ড কতবার স্পন্দিত হয়— তাকেই বলা হয় রেস্টিং হার্ট রেট (Resting Heart Rate)। চিকিৎসকদের মতে, এই সংখ্যাটি কেবল আপনার হার্টের অবস্থা নয়, বরং শরীরের সার্বিক বয়স এবং আপনি কতদিন সুস্থভাবে বাঁচবেন, তারও আগাম সংকেত দেয়।

স্বাভাবিক হার্ট রেট কত হওয়া উচিত?
প্রাপ্তবয়স্ক: মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিক ধরা হয়।

অ্যাথলিট বা ফিট ব্যক্তি: যারা নিয়মিত শরীরচর্চা বা খেলাধুলা করেন, তাঁদের রেস্টিং হার্ট রেট ৫০-এর কাছাকাছি হতে পারে। এর মানে তাঁদের হৃদযন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কম পরিশ্রমে বেশি রক্ত পাম্প করতে সক্ষম।

কখন সাবধান হতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেস্টিং হার্ট রেট যদি নিয়মিত ৮০-এর বেশি থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের হৃদরোগের অশনি সংকেত। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিকের চেয়ে প্রতি ১০ বিট বৃদ্ধিতে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। এটি শরীরে অতিরিক্ত মানসিক বা শারীরিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

ব্র্যাডিকার্ডিয়া: যখন কম হার্ট রেট বিপদের কারণ
হার্ট রেট কম হওয়া সাধারণত ভালো ফিটনেসের লক্ষণ হলেও, সবার ক্ষেত্রে তা খাটে না। যদি হার্ট রেট খুব কমে যায় এবং সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা।

প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট।

বুক ধড়ফড় করা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
মেডিকেল পরিভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ব্র্যাডিকার্ডিয়া।

হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ উপায়
১. নিয়মিত ব্যায়াম: শুধু হাঁটা নয়, পেশি মজবুত করার ব্যায়ামও হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
২. মানসিক চাপ কমান: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা সরাসরি হার্ট রেট বাড়িয়ে দেয়। ইয়োগা বা মেডিটেশন ট্রাই করুন।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম: হার্টকে রিচার্জ করতে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম আবশ্যক।
৪. ধূমপান বর্জন: তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালী সংকুচিত করে হার্টের ওপর চাপ বাড়ায়।
৫. স্বাস্থ্যকর খাবার: ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল হার্টের গতি স্বাভাবিক রাখে।

কিভাবে মাপবেন?
সবচেয়ে সঠিক মাপ পাওয়া যায় সকালে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরেই। শান্ত হয়ে বসে নাড়ির স্পন্দন গুনে নিজেই পরীক্ষা করুন আপনার হার্ট রেট। নিয়মিত এই অভ্যাস আপনাকে বড় কোনো রোগের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।