“বাংলার ভোটের হার দেখে আমি খুব খুশি!” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মুখে পশ্চিমবঙ্গের প্রশংসা

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদান নজর কেড়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। ২০১১ সালের নজির ছাপিয়ে এবার প্রথম দফাতেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বাংলায়। এই বিপুল জনঅংশগ্রহণে উচ্ছ্বসিত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুক্রবার এসআইআর (SIR) মামলার শুনানির সময় তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটের হার দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি।
“গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়েছে” – প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন পর্যবেক্ষণ করেন, মানুষ যখন এভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তখন তাঁরা আসলে দেশের গণতন্ত্রকেই শক্তিশালী করেন। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ভোটের হার নিয়ে প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ট্রেন ভরে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভোট দিতে এসেছেন এবং কোথাও কোনো বড় হিংসার ঘটনা ঘটেনি।
ঐতিহাসিক ৯২ শতাংশ: প্রশংসা তুষার মেহতার
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “সিকিউরিটি ফোর্স খুব ভালো কাজ করেছে। ৯২ শতাংশ ভোটের হার সত্যিই ঐতিহাসিক।” তবে আলোচনার মাঝেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য ছিল কিছুটা অন্যরকম। তিনি বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলু খাগড়ার প্রাণ যায়।”
এসআইআর মামলা: ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নির্দেশ
এদিন শুনানির মূল বিষয় ছিল এসআইআর মামলার ট্রাইব্যুনালে নাম নিষ্পত্তি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ২৭ লক্ষের মধ্যে মাত্র ১৩৯ জনের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দেন:
নাম নিষ্পত্তি বা জরুরি শুনানির প্রয়োজন হলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাতে হবে।
ট্রাইব্যুনালকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অকারণে কারও নাম বাদ না যায়।
প্রতিদিনের শুনানিতে নতুন কোনো বিষয় উঠে এলে তা ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্টের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।
আদালতে হাল্কা মেজাজ
শুনানির ফাঁকেই তৈরি হয় এক মজার মুহূর্ত। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডুকে নিজের বাড়িতে ডিনারে আমন্ত্রণ জানান। যা শুনে বিচারপতি বাগচী রসিকতা করে বলেন, “আগে হলে আমিই দায়িত্ব নিতাম!”
সব মিলিয়ে, বাংলার রেকর্ড ভোটদান যে জাতীয় স্তরে এবং বিচারব্যবস্থার শীর্ষ মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, তা প্রধান বিচারপতির মন্তব্যেই স্পষ্ট।