“৪ মে-র পর সব ফাইল খোলা হবে!” প্রথম দফা মিটতেই তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি মোদীর, ভয়ে কাঁপছে অপরাধীরা?

বাংলায় প্রথম দফার মেগা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শাসক দলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার দমদমের জনসভা থেকে রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। তাঁর সাফ বার্তা, আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’ চিরতরে শেষ হবে। শুধু তাই নয়, বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
“মোদী যা বলে, তা করে দেখায়!”
এদিন প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “বিজেপি সরকার গঠন করার পর গত কয়েক বছরে বাংলার মানুষের ওপর হওয়া প্রতিটি অত্যাচার ও প্রতিটি দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।” তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটে যে হারে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন, তা আসলে পরিবর্তনের ডাক। তৃণমূলের হার্মাদ ও গুন্ডাদের উদ্দেশে তাঁর হুঙ্কার, “পালানোর কোনো জায়গা থাকবে না, কেউ রক্ষা করতে পারবে না।”
রেকর্ড ভোটদান: পরিবর্তনের জোয়ার?
১৫২টি আসনে রেকর্ড ৯২.৮৯ শতাংশ ভোটদানকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি এই ভোটবৃদ্ধিকে তিনি ‘তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। মোদীর কথায়, “গত রাতেও তৃণমূল নিজেদের গুন্ডাদের শক্তি বাড়াতে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছে এটা বিপ্লবীদের মাটি। মানুষ এবার তৃণমূলের শাসন থেকে মুক্তি পেতে মুখিয়ে আছে।”
দমদমে মোদীর ‘অ্যাকশন’ প্ল্যান
দমদমের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রেকর্ড এই জনঅংশগ্রহণ আসলে তৃণমূলের ‘মহা জঙ্গলরাজ’-এর অবসান ঘটানোর প্রথম ধাপ। প্রথম দফার এই ঝোড়ো ব্যাটিং আসলে বিজেপি-র নিশ্চিত জয়েরই ইঙ্গিত। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে মোদীর এই ‘অ্যাকশন’-এর প্রতিশ্রুতি বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের ‘১৫-১৬টি আসনের’ বিস্ফোরক মন্তব্যের পর মোদীর এই ‘ফাইল খোলার’ হুঁশিয়ারি তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।