ভোট শেষে রণক্ষেত্র নন্দীগ্রাম! তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ঘিরে ‘মাটি চোর’ স্লোগান, উদ্ধার করল কেন্দ্রীয় বাহিনী

প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোনাচূড়ায় তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় একদল ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনীকে এসে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে উদ্ধার করতে হয় প্রার্থীকে।

পবিত্র করকে ‘ঘেরাও’ ও ‘মাটি চোর’ স্লোগান
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে সোনাচূড়া এলাকায় পবিত্র কর পৌঁছলে তাঁকে ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘মাটি চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং প্রায় দু-ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই এই চক্রান্তের পেছনে রয়েছে। যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষই পবিত্র করকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

বুথ থেকে অশান্তির সূত্রপাত
উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের মহম্মদপুর এলাকাতেও। বিজেপির অভিযোগ:

দারুম উলুম সিনিয়র হাই মাদ্রাসা কেন্দ্রের বিজেপি পোলিং এজেন্টকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়।

এজেন্টকে বের করে আনতে গেলে তিন বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

বর্তমানে আহত কর্মীরা নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বড় টিম। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। এর প্রতিবাদে রাতেই নন্দীগ্রামের টেংগুয়া, রতনপুর ও চন্ডীপুরে পথ অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

বারুইপুরেও অশান্তি
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে বারুইপুরেও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বিজেপির প্রচার গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোট শেষে বাংলার একাধিক জেলা এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।