ভোটের অঙ্ক ঘিরে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই! প্রথম দফাতেই ১২৫ আসন দখলের দাবি তৃণমূলের, নিশানায় শুভেন্দু

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে আসন সংখ্যার দাবি-পাল্টা দাবি। একদিকে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপি-র বিপুল জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ঠিক তার পাল্টা জবাবে এবার বড় ‘বোমা’ ফাটালো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যেই তারা অন্তত ১২৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গড়ার ‘ম্যাজিক ফিগার’-এর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে।

কুণাল-ব্রাত্যের যৌথ আক্রমণ: নিশানায় শুভেন্দু
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন যে, বিজেপি এবার ধুয়েমুছে যাবে। কুণাল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই হারতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এবার প্রাক্তন বিধায়ক হতে চলেছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর ডেরায় থাবা বসিয়েই তৃণমূল তাদের ১২৫ আসনের লক্ষ্যপূরণ করতে চাইছে।

মমতার ‘নাড়ি’ পরীক্ষা ও আত্মবিশ্বাস
বৌবাজারের জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন যে, তিনি মানুষের নাড়ি বুঝতে পারেন। তাঁর কথায়, “আমি যদি মানুষের নাড়ি বুঝতে পারি, তবে বলব, আমরা ইতিমধ্যেই চালকের আসনে বসে আছি।” মমতা মনে করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কায় মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়েছেন, যা সরাসরি তৃণমূলের পক্ষেই গিয়েছে।

বিপুল ভোটদানের পেছনে কী কারণ?
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রেকর্ড ৯১.৮৩ শতাংশ ভোটদানের প্রধান কারণগুলি হলো:

সিএএ/এনআরসি আতঙ্ক: মানুষ নিজেদের নাগরিকত্ব রক্ষায় জোটবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়েছেন।

মহিলা ভোট: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং নারী সুরক্ষার প্রশ্নে মহিলাদের বিপুল ভোট মমতার ঝুলিতেই গিয়েছে বলে দাবি কুণাল ঘোষের।

সরকারপন্থী ভোট: ব্রাত্য বসুর মতে, ভোট বেশি পড়ার অর্থ সবসময় সরকার বিরোধী হওয়া নয়, বরং অনেক সময় সরকারের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবেও মানুষ রেকর্ড ভোট দেন।

অভিষেকের হুঙ্কার
মেটিয়াবুরুজের জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে দাবি করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার পর বিজেপির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তাঁর মতে, দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূলের ‘ঘাঁটি’গুলিতে ভোট শুরু হলেই বিরোধীরা কার্যত ময়দান ছেড়ে পালাবে।