“অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী”-তেলের দাম কি তবে ২০০ ছুঁইছুঁই? ভারতে কতটা প্রভাব?

ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন কার্যত খাদের কিনারায়। দুই দেশের এই ‘ইগো’র লড়াইয়ে এখন অগ্নিগর্ভ আন্তর্জাতিক তেলের বাজার। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রমে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম হুঁশিয়ারি— “হরমুজ অবরুদ্ধ থাকবে, এখান দিয়ে জাহাজ গেলেই হামলা হবে”— এই বার্তার পর থেকেই তেলের দামে আগুন লেগেছে।
হু হু করে বাড়ছে ক্রুড অয়েলের দাম
গত কয়েকদিন ধরেই অপরিশোধিত তেলের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। বাজার বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী:
-
ব্রেন্ট ক্রুড: ১.২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬.৩ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে।
-
ডব্লুটিআই ক্রুড: এর দামও ১.০৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৬.৯২ ডলার। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার এক দিনেই তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বা ব্যারেল প্রতি ৫ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন এই অচলাবস্থা?
মূল সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ইরান চাইছে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজ তাদের অনুমতি নিক। অন্য দিকে, আমেরিকা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনড়। আমেরিকার নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের বন্দর অবরুদ্ধ করেছে। পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে ঘি ঢেলেছে ইজরায়েলের হুমকি— আমেরিকার গ্রিন সিগন্যাল পেলেই তারা ইরানে হামলা চালাবে।
ভারতের ওপর প্রভাব: পেট্রোল কি আরও দামি হবে?
ভারত তার জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই আমদানি করে। হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ভারতের মতো আমদানিকারক দেশগুলি বিপাকে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে:
-
তেলের দাম খুব দ্রুত ১১০ ডলার থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।
-
আন্তর্জাতিক বাজারে এই হারে দাম বাড়লে ভারতেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।