আলু চাষিদের জন্য ‘চিপস ফ্যাক্টরি’ থেকে অনুপ্রবেশকারী তাড়ানো—হুগলিতে বড় গ্যারান্টি দিলেন শাহ

বিধানসভা নির্বাচনের আবহে হুগলির পুরশুড়ায় জনসভা করে রাজনৈতিক পারদ সপ্তমে চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একদিকে তৃণমূলের ‘ভয় দেখানো’র রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে জেলার প্রাণকেন্দ্র হুগলির আলু চাষিদের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এদিন শাহের বক্তব্যে ছিল দ্বিবিধ রণকৌশল।

ভোটারদের অভয় ও তৃণমূলকে তোপ:
পুরশুড়ার মায়াপুরে নির্বাচনী প্রচারে এসে অমিত শাহ দাবি করেন, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর ভয়ে অনেক মানুষ বুথমুখী হতে ভয় পাচ্ছেন। আরামবাগ ও পুরশুড়ার বাসিন্দাদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। নির্ভয়ে ভোট দিন। ভোটের দিন কোনও অশান্তি হলে তার কড়া জবাব পরে দেওয়া হবে।”

আলু চাষিদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’:
হুগলির আলু চাষিদের সংকটের কথা তুলে ধরে শাহ সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ হওয়ায় চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁর বড় প্রতিশ্রুতি:

রফতানি: বাংলার আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।

বীজ সংরক্ষণ: রাজ্যে উন্নত মানের আলুর বীজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে চাষিদের বাইরের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

শিল্পায়ন: হুগলি থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত ‘আলু চিপস’ তৈরির বড় বড় কারখানা গড়ে তোলা হবে, যাতে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দামের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও পান।

অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কড়া অবস্থান:
এদিনের সভা থেকে ফের একবার সিএএ ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সরব হন শাহ। তিনি সাফ জানান, “বিজেপি সরকার গড়লে রাজ্যে থাকা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। এরা স্থানীয় যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং সরকারি সুবিধা ভোগ করছে।”

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত:
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তৃণমূলের আপত্তির পাল্টা জবাব দিয়ে শাহ বলেন, ৪ মে ফলাফল বেরোনোর পরই রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এলে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।