ভারতকে ‘নরক’ বলে কটাক্ষ ট্রাম্পের! যুদ্ধের আবহে বর্ণবিদ্বেষী পোস্ট ঘিরে অগ্নিগর্ভ কূটনীতি, কেন চুপ মোদী?

একদিকে যখন ইরানের সাথে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন গোটা দেশ, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য কাঠগড়ায় উঠলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয়দের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য এবং ভারতকে ‘নরক’ বলে অভিহিত করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় যেমন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ, তেমনই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

‘প্রেসিডেন্ট নাকি রিয়্যালিটি শো-র বিচারক?’: তোপ বিরোধীদের
মার্কিন হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পকে ধুয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, “দেশ যখন যুদ্ধের দোড়গোড়ায়, হাজার হাজার আমেরিকান বিপদে, তখন ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণবাদী আবর্জনা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি প্রেসিডেন্সি পদটাকে যেন রিয়্যালিটি টিভির আসর বানিয়ে ফেলেছেন।” ডেমোক্র্যাটদের দাবি, আমেরিকার এখন একজন পরিণত নেতার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ট্রাম্পের আচরণ তার ঠিক উল্টো।

বিতর্কিত ভিডিওতে কী ছিল?
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মাইকেল সেভেজ নামে এক কট্টরপন্থী রেডিও সঞ্চালকের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দাবি করা হয়:

ভারত বা চীনের মতো ‘নরক’ থেকে গর্ভবতী মহিলারা শেষ মুহূর্তে আমেরিকায় আসেন।

তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।

ভিডিওটিতে ভারতীয়দের সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর ও বর্ণবিদ্বেষী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

দিল্লির কড়া জবাব ও দূতাবাসের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিম্নরুচির’ এবং ‘ভুল তথ্যে ভরা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানান, “এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সুসম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি আসরে নামে মার্কিন দূতাবাস। তারা দাবি করে, ট্রাম্প ভারতকে একটি মহান দেশ মনে করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর খুব ভালো বন্ধু। যদিও কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত সরকার এই সাফাইকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

মোদীর নীরবতা নিয়ে গর্জে উঠলেন খাড়গে
দেশের অপমান নিয়ে কেন প্রধানমন্ত্রী নীরব, সেই প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর প্রশ্ন:

“মোদীজি কার ভয়ে চুপ? ট্রাম্প ভারতকে গালি দিচ্ছেন আর আপনি একটা কথাও বলছেন না কেন? আমেরিকার সাফল্যে ভারতীয়দের অবদান সবথেকে বেশি, তবুও কেন সর্বোচ্চ স্তরে এর প্রতিবাদ হচ্ছে না?”

খাড়গের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বের খাতিরে মোদী দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছেন। ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন নির্বাচনের আবহে ট্রাম্পের এই ‘ভারত-বিরোধী’ অবস্থান দুই দেশের সমীকরণকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।