প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি প্রীতির ‘ভয়াবহ’ পরিণতি! হন্যে হয়ে বিক্রমকে খুঁজছে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম, কী ঘটেছে আসলে?

রাজনীতিতে বলে, “পাবলিক ফিগারদের” সান্নিধ্য যে কাউকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ঝাড়গ্রামের বিক্রমের ক্ষেত্রে ঘটল ঠিক তার উল্টো। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী জনসভায় এসে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দোকানের ঝালমুড়ি খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আর সেই ‘খ্যাতি’র চোটেই এখন ভিটেমাটি এবং দোকান ছেড়ে কার্যত ‘পলাতক’ এই ঝালমুড়ি বিক্রেতা।

খ্যাতির বিড়ম্বনা নাকি আতঙ্ক?

গত কয়েকদিন ধরে ঝাড়গ্রামের অলিগলিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে শুধু বিক্রমের কথা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই বিক্রমের সাধারণ জীবন আমূল বদলে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম থেকে মনোজিৎ দাস ও সুরজিৎ দত্তের সরেজমিন রিপোর্ট বলছে:

  • পুলিশি নজরদারি ও প্রোটোকল: প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার খাতিরে বিক্রমের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই এবং ঘনঘন জিজ্ঞাসাবাদের চাপে মানসিক উদ্বেগে পড়ে যান তিনি।

  • সংবাদমাধ্যমের ভিড়: রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন সকালে তাঁর দরজার সামনে ভিড় জমাচ্ছে অগণিত ক্যামেরা ও রিপোর্টার। এই লাইমলাইট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের বিক্রম।

  • হুমকির ভয়: রাজনৈতিক উত্তপ্ত আবহে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা পাওয়ায় কোনো পক্ষ থেকে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে— এমন একটা অমূলক আতঙ্কও তাঁকে গ্রাস করেছে।

দোকান এখন খাঁ খাঁ করছে

ঝাড়গ্রামের যে মোড়ে আগে বিক্রমের ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য লাইন পড়ত, সেই দোকান এখন বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মোদী যাওয়ার পর দু-একদিন দোকান খুললেও মানুষের অতিরিক্ত ভিড় এবং ক্রমাগত ফোন আসায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনি দোকান গুটিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে পরিবারের লোকেরাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

প্রতিবেশীদের দাবি:

এক প্রতিবেশী জানান, “বিক্রম খুব সাদাসিধে ছেলে। প্রধানমন্ত্রীকে খাওয়ানো ওর কাছে গর্বের ছিল, কিন্তু তারপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আর লোকজনের অত্যাচারে ও ঘাবড়ে গিয়েছে। ও শুধু একটু শান্তি চায়।”

একজন সামান্য ঝালমুড়ি বিক্রেতার কাছে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা আশীর্বাদ না কি বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়াল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় ঝাড়গ্রাম। তবে ভক্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবাই চাইছেন বিক্রম আবার তাঁর চিরচেনা হাসিমুখে ঝালমুড়ির ডালা নিয়ে মোড়ে ফিরে আসুক।

Editor001
  • Editor001