“ভারত ভ্রমণে এসে চরম লাঞ্ছনা! মার্কিন তরুণীকে ৩ দিন আটকে রাখার অভিযোগ, হোমস্টে মালিকের কীর্তিতে ছিঃ ছিঃ দেশজুড়ে”

ভারত ভ্রমণে আসা এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল কর্নাটকের কুডাগু (Kodagu) জেলার কুট্টা গ্রামে। এক হোমস্টে কর্মীর বিরুদ্ধে ওই আমেরিকান তরুণীকে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই পর্যটককে তিন দিন ঘরে বন্দি রাখা এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হোমস্টের ওয়াইফাই বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মালিকের বিরুদ্ধে।

ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে খবর, ভুক্তভোগী মার্কিন তরুণী ওই হোমস্টেতে থাকাকালীন তাঁর পানীয়র সঙ্গে মাদক মিশিয়ে দেওয়া হয়। অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে যৌন হেনস্থা করে হোমস্টের এক কর্মী, যে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তরুণী জ্ঞান ফেরার পর প্রতিবাদ জানালে এবং পুলিশে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় আসল অত্যাচার।

আটক করে রাখা ও ওয়াইফাই বিভ্রাট: অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণী যাতে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্য প্রায় তিন দিন ওই হোমস্টের ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। মালিকের মদতেই তাঁকে সেখানে এক প্রকার বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিন দিন পর কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে মহীশূরে পৌঁছান ওই তরুণী এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পুলিশি পদক্ষেপ: দূতাবাসের তরফে অভিযোগ আসার পর নড়েচড়ে বসে কর্নাটক পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) কুডাগু জেলা পুলিশ অভিযুক্ত কর্মী এবং হোমস্টের মালিককে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ এবং তথ্য গোপনের মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ধৃতদের ৩ মে পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: এই ঘটনায় দেশের পর্যটন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতা সি.টি. রবি এবং একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি করেছেন।

এক নজরে: পর্যটকদের সুরক্ষায় বড় প্রশ্নচিহ্ন। অভিযোগ দায়ের রুখতে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ভিনদেশি নাগরিকের ওপর এই অত্যাচারে আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।