দিল্লি যাওয়ার দরকার নেই! ঘরে বসেই প্রথমবার UPSC জয় ২১ বছরের আস্থার, ৬১ র্যাঙ্ক করার রহস্য কী?

সাধারণ মানুষের ধারণা, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হতে গেলে দিল্লির নামী কোচিং সেন্টারে মোটা টাকা খরচ করা আবশ্যিক। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে চুরমার করে দিলেন উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের মেয়ে আস্থা সিং। মাত্র ২১ বছর বয়সে, কোনো কোচিং ছাড়াই প্রথম প্রচেষ্টায় দেশের অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষায় ৬১তম স্থান দখল করে চমকে দিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্য ছিল স্থির, শুরুটা বাড়ি থেকেই
২০২৩ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্স (SRCC) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন আস্থা। ডিগ্রির পর দিল্লিতে না থেকে সোজা চলে আসেন হরিয়ানার পঞ্চকুলায় নিজের বাড়িতে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর লড়াই। আস্থার বাবা ব্রিজেশ সিং একটি বেসরকারি ফার্মা সংস্থায় কর্মরত। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আস্থা নিজের ঘরের শান্ত পরিবেশকেই প্রস্তুতির মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
আস্থার ‘সাকসেস ফর্মুলা’: কম বই, বেশি মনোযোগ
কীভাবে এল এই অভাবনীয় সাফল্য? আস্থা জানিয়েছেন তাঁর তিনটি বিশেষ কৌশলের কথা:
সিলেবাসের ব্যবচ্ছেদ: গোটা বিশাল সিলেবাসকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিটি অংশের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করতেন।
নির্বাচিত পড়াশোনা: বাজারের সব বই না পড়ে তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট বই বেছে নিয়েছিলেন এবং সেগুলিই বারবার ঝালিয়ে নিয়েছেন।
ভুল থেকে শিক্ষা: বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করা এবং নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়াকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ট্রেনিং ও পড়াশোনার দ্বৈত লড়াই
আস্থার এই সফর সহজ ছিল না। ইউপিএসসি প্রস্তুতির মাঝেই তিনি হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসেস (HPSC) পরীক্ষায় ৩১তম স্থান পান এবং ‘অ্যাডিশনাল এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন অফিসার’ হিসেবে যোগ দেন। একদিকে সরকারি চাকরির কঠিন ট্রেনিং আর অন্যদিকে ইউপিএসসি মেইনস-এর প্রস্তুতির চাপ— প্রতিদিন ক্লান্ত হয়ে ফেরার পরেও ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা নিয়ম করে পড়াশোনা করতেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের জন্য আস্থার বার্তা
সাফল্যের পর আস্থার সরল স্বীকারোক্তি, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নিজের শক্তির জায়গাটা বোঝা। অন্যের দেখাদেখি নয়, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে শান্তভাবে এগোলেই লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব।”