মোদীর হাতেই কি বিশ্বজয় করবে ঝালমুড়ি? ১০ টাকার ঠোঙায় মজেছে ১০ কোটি মানুষ, তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া!

বাঙালির আড্ডার চিরসঙ্গী, স্কুল-কলেজের গেটের সেই অতি পরিচিত ১০ টাকার ঝালমুড়ি এবার বিশ্ব দরবারে রাজত্ব করতে চলেছে। সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ঝাড়গ্রামে ভোট প্রচারে বেরিয়ে পথের ধারের দোকান থেকে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মেগা ভাইরাল’। আর এই সাধারণ একটি ঘটনাই বাংলার ঝালমুড়ি শিল্পে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেকর্ড ভাঙা গুগল সার্চ ও ভিউস
প্রধানমন্ত্রীর এক্স (X), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ১০ কোটিরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২২ বছরে গুগলে ‘ঝালমুড়ি’ শব্দটা যতবার সার্চ হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেই সব রেকর্ড ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। বাঙালির গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন অবাঙালিদের ড্রয়িং রুমেও আলোচনার বিষয়— বাংলার মশলাদার ঝালমুড়ি।
সুপারফুড হওয়ার পথে ঝালমুড়ি!
আরপিজি (RPG) গ্রুপের চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা এই ঘটনাকে একটি ‘বড় সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করেছেন, মোদীর এই পদক্ষেপ একটি গোটা ক্ষুদ্র শিল্পকে তুলে ধরার দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মতে, কিনোয়া বা অ্যাভোকাডোর মতো বিদেশের ‘হেলদি ফুড’-এর পাশে বাংলার ঝালমুড়িও এখন গ্লোবাল সুপারফুড হওয়ার যোগ্য দাবিদার।
প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের নিচেও কি এবার ঝালমুড়ি?
অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন, যেভাবে পিৎজা বা বার্গার বিশ্ব জয় করেছে, সেভাবেই এবার ঝালমুড়ি পৌঁছে যাবে প্যারিস বা নিউইয়র্কের ফুডকোর্টে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আইফেল টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে কোনো পর্যটক কাগজের ঠোঙায় ঝালমুড়ি খাচ্ছেন— এমন দৃশ্য অবাস্তব নয়। বাঙালির সস্তার এই খাবার এখন আক্ষরিক অর্থেই একটি ‘ব্র্যান্ড’-এ পরিণত হয়েছে।
কেন এত প্রিয় এই খাবার?
মুড়ি, সর্ষের তেল, হরেক মশলা, চানাচুর আর কাঁচালঙ্কার মিশেলে তৈরি এই খাবার যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর। এতদিন যা মূলত ট্রেন, বাস বা রাস্তার মোড়েই সীমাবদ্ধ ছিল, মোদীর হাত ধরে ১০ টাকার সেই ম্যাজিক এখন বিশ্ববাজারের পাসপোর্ট পেয়ে গেল।