মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়েই বিপত্তি! রাতারাতি উধাও ঝাড়গ্রামের বিক্রম, প্রাণভয়ে কি ঘরছাড়া সাধারণ বিক্রেতা?

সাধারণ এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা। প্রতিদিনের মতো ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের সামনে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রম কুমার সাউ। কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখেছিলেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেলেন, আর সেই মুহূর্তেই বদলে গেল বিক্রমের জীবন। তবে এই খ্যাতি আশীর্বাদ নয়, বরং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিশাপ হয়ে নেমে এল তাঁর জীবনে।

খ্যাতি নয়, যেন একরাশ আতঙ্ক!
প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র চাপানউতোর। অভিযোগ উঠেছে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের পরোক্ষ নিশানায় আসতেই চরম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন বিক্রম। যে মানুষটি কেবল রুটিরুজির টানে ব্যবসা করতেন, তিনি এখন হাই-ভোল্টেজ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

দোকান ছেড়ে ‘পলাতক’ বিক্রম?
সোমবার ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের সামনে গিয়ে দেখা গেল, দোকান খোলা থাকলেও সেখানে নেই বিক্রম। দোকান সামলাচ্ছেন তাঁর বাবা-মা। ছেলে কোথায়? এই প্রশ্নে পরিবারের দাবি, শ্বশুরের অসুস্থতার কারণে তড়িঘড়ি বিহারে গিয়েছেন তিনি। তবে স্থানীয়দের ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক হুমকির জেরেই কার্যত ‘গা ঢাকা’ দিতে বাধ্য হয়েছেন এই যুবক।

শাসকদলের হাতেই তৈরি দোকান, এখন তাঁদেরই কোপে!
বিস্ময়কর বিষয় হলো, একসময় শাসকদলের নেতারাই ফুটপাত থেকে সরিয়ে বিক্রমকে এই স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষে আক্রমণ শানাচ্ছেন, তখন সেই পুরনো কৃতজ্ঞতা বদলে গিয়েছে আতঙ্কে। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্রমের বাবা-মায়ের চোখেমুখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা আর ভয়।

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
ভোটের আগে সামান্য একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে নিয়ে কেন এত টানাটানি? বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েই সাধারণ মানুষকেও টার্গেট করছে শাসকদল। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টাদাবি করা হচ্ছে বিষয়টি অতিরঞ্জিত। কিন্তু সব বিতর্কের মাঝে বড় প্রশ্ন— নিজের শহরে নিজের দোকানে কি আর ফিরতে পারবেন ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়ি বিক্রেতা?