পকেটে আসছে না বাড়তি টাকা! এপ্রিলের মাইনে নিয়ে দুঃসংবাদ সরকারি কর্মীদের জন্য, কোথায় আটকাল ৪% ডিএ?

নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ছিল খুশির খবর। বাজেটে ঘোষিত বর্ধিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) এপ্রিলের বেতন থেকেই পাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু মাস শেষে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি। সরকারি নির্দেশিকা বা ‘অর্ডার’ না পৌঁছনোয় রাজ্যের একাধিক দপ্তর ইতিমধ্যেই পুরনো হারেই বেতনের বিল জমা দিয়ে দিয়েছে। ফলে এপ্রিল মাসের মাইনেতে বাড়তি টাকা পাচ্ছেন না সরকারি কর্মীরা।

কেন মিলছে না বর্ধিত ডিএ?
ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য বাজেটে মহার্ঘ ভাতা ৪ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার’ (DDO)-রা বিল না পাঠালে বেতন আটকে যেতে পারে। কিন্তু ডিএ সংক্রান্ত সরকারি আদেশনামা না আসায় বাধ্য হয়েই তাঁরা পুরনো হারে বিল তৈরি করে ট্রেজারি ও পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসে পাঠিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় হতাশ কর্মী মহল।

কমিশনকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী
এই ডিএ জট নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার মহার্ঘ ভাতা দিতে চাইলেও নির্বাচন কমিশন সেই ফাইল আটকে রেখেছে। মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে তিনি বলেন, “বাজেটে বলেছিলাম ৪ শতাংশ ডিএ দেব। কিন্তু কমিশন সেই ফাইল আটকে রেখেছে। এটা তো ভোটের আগের ঘোষণা, তাই ফাইল আটকে রাখার কথা নয়।” সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে দ্রুত ফাইল ছেড়ে দেওয়ার জন্য কমিশনকে বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: “কথা আমি রাখি”
বিলে দেরি হলেও কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছে। নতুন ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ-ও এপ্রিলের বেতনের সঙ্গেই পাবেন কর্মীরা। আমি যা কথা দিই, তা রাখি।” অর্থাৎ, কমিশন ফাইল ছেড়ে দিলে বকেয়া টাকা পরবর্তী সময়ে অ্যাডজাস্ট করে দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে সরকারের তরফে।

একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
পূর্ব ঘোষণা: ১ এপ্রিল থেকে ৪% ডিএ বৃদ্ধি।

বর্তমান হার: ষষ্ঠ পে কমিশনের আওতায় ১৮%।

লক্ষ্যমাত্রা: বর্ধিত হার মিলিয়ে মোট ২২% ডিএ।

বর্তমান অবস্থা: সরকারি অর্ডারের অভাবে এপ্রিলের বিলে পুরনো হারই বজায় রয়েছে।