শাহের মুখে ‘এই মমতা দিদি’! অগ্নিশর্মা তৃণমূল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাল্টা কড়া ভাষায় কী জবাব দিলেন মহুয়া?

রাজ্যের নির্বাচনী পারদ যত চড়ছে, ততই তিক্ত হচ্ছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বাক্যবাণ। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত শুরু হলো তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। শাহের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ‘এই মমতা দিদি’ সম্বোধন একেবারেই ভালোভাবে নিচ্ছে না রাজ্যের শাসক দল। আর এই ইস্যুতে শাহকে পাল্টা আক্রমণ শানাতে কলম ও মুখ— দুই-ই ধরলেন তৃণমূলের তড়িৎ বক্তা মহুয়া মৈত্র।
কী বলেছিলেন অমিত শাহ?
সম্প্রতি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং দুর্নীতি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “এই মমতা দিদি, আপনার দিন ঘনিয়ে এসেছে।” শাহের এই ‘এই মমতা দিদি’ (Ei Mamata Didi) সম্বোধনকে অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং নারীবিদ্বেষী বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের দাবি, একজন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এক রাজ্যের নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এই ধরনের হালকা এবং তাচ্ছিল্যসূচক সম্বোধন শিষ্টাচারের বিরোধী।
মহুয়া মৈত্রর পাল্টা হুল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামেন কৃষ্ণনগরের বিদায়ী সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি নজিরবিহীন ভাষায় অমিত শাহকে আক্রমণ করে জানান:
“যাঁরা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি বোঝেন না, তাঁদের মুখেই এমন ভাষা মানায়। ভারতের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে বিজেপি নারীদের কতটা সম্মান দেয়। ওনার এই ‘তাচ্ছিল্য’ বাংলার মানুষ ভালো চোখে দেখবে না।”
মহুয়া আরও ইঙ্গিত দেন যে, অতীতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিদি ও দিদি’ ডাক বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছিল, এবারও শাহের এই মন্তব্য ব্যুমেরাং হতে চলেছে।
কেন সরব তৃণমূল?
ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, এটি কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং বাংলার মেয়ে এবং এক জন পদাধিকারী মহিলার সম্মানহানি। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাংলায় কারও নাম ধরে ‘এই…’ বলে সম্বোধন করাটা তাচ্ছিল্যের প্রতীক। নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু তাতে সৌজন্যবোধের সীমারেখা পার করা উচিত নয়।
বিজেপির সাফাই
যদিও বিজেপি এই অভিযোগকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘বাংলার দিদি’ বলে পরিচয় দেন, তাই তাঁকে ‘দিদি’ বলেই সম্বোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও অসম্মান নেই। বরং তৃণমূল আসল ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ছোট বিষয় নিয়ে রাজনীতি করছে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগেই শাহ-মহুয়া এই বাকযুদ্ধ বঙ্গ রাজনীতির আবহাওয়াকে আরও তপ্ত করে তুলল।