ভোটের ভোরেই বিস্ফোরক তৃণমূল! ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে কমিশনকে কড়া তোপ জয়প্রকাশের

প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ এবং সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা প্রয়োগের পর আশা করা হয়েছিল বহু মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পাবেন। কিন্তু বুধবার ভোররাতে কমিশনের প্রকাশিত ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’ যেন তপ্ত কড়াইয়ে জল ঢেলে দিল!

পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা: ২৭ লক্ষে মাত্র ১৩৬!
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে মাত্র ১৩৬ জন ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। অথচ দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। শুধু তাই নয়, ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর নতুন করে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন আরও ২ জন। ট্রাইব্যুনাল যেখানে স্পষ্ট বলেছিল যে ভোটারদের সঙ্গে কথা না বলে কারও নাম বাদ দেওয়া যাবে না, সেখানে কীভাবে এই দুজন বাদ পড়লেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

“এই কমিশনের আর দরকার নেই”: তোপ তৃণমূলের
কমিশনের এই রিপোর্ট সামনে আসতেই অগ্নিশর্মা তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে বলেন:

“তিন সপ্তাহে ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১৩৬ জনের নামের নিষ্পত্তি করল? এ যেন মরুভূমিতে এক ফোঁটা জল! এই ২৭ লক্ষ মানুষ কী অপরাধ করেছিল? এই নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে। এদের আর কোনও দরকার নেই।”

কী ছিল সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ?
বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল দীর্ঘদিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর (SIR) তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল:

প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল): ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম নিষ্পত্তি হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল): ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হবে, তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন।

পাল্টা যুক্তি বিজেপির
তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, “তথ্য-প্রমাণের অভাবেই ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। জুডিশিয়াল অফিসাররা নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। যাঁরা সঠিক নথি দিতে পারছেন, কেবল তাঁদের নামই তালিকায় উঠছে। তৃণমূলের অযথা ভাবছে সবাই তালিকায় থাকবে।”

এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:

প্রথম দফায় ভোট দেওয়ার অধিকার পেলেন মাত্র ১৩৬ জন।

নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা থেকে ২ জনের নাম রহস্যজনকভাবে উধাও।
দ্বিতীয় দফার জন্য ২৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী তালিকার দিকে তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী।