রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট, তার আগেই দ্বিতীয় দফার জন্য শাহী ‘মাস্টারপ্ল্যান’! ৪ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী হল?

বাংলা জয়ের লক্ষ্যে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ পদ্ম শিবির। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার মেগা ভোটগ্রহণ। কিন্তু প্রথম দফার প্রচারের ধুলো থিতিয়ে যেতে না যেতেই দ্বিতীয় দফার রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নামলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় ভিন রাজ্যের বিজেপি নেতাদের নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা ম্যারাথন বৈঠক করলেন মোদীর ‘চাণক্য’।
শাহের নজরে ‘দুর্বল’ ১৪২ আসন
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, দ্বিতীয় দফায় যে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে, সেখানে গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। ফলে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে হলে এই আসনগুলোই বিজেপির জন্য অ্যাসিড টেস্ট। আর সেই বৈতরণী পার করতেই শাহের এই বিশেষ তৎপরতা।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী আলোচনা?
এদিন রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দ্বিতীয় দফার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিন রাজ্যের প্রভাবশালী বিজেপি নেতারা। এছাড়াও ছিলেন:
সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব এবং অমিত মালব্যর মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৈঠক সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার আসনগুলোতে বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করা এবং প্রচারের অভিমুখ কোন দিকে হবে, তা নিয়ে নেতাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শাহ।
২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাই ‘ঘর’ অমিত শাহের
বিজেপি সূত্রে এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোট প্রচারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাতেই ডেরা গাড়ছেন অমিত শাহ। এই দীর্ঘ সময় রাজ্যে থেকে তিনি সরাসরি প্রতিটি কেন্দ্রের হালহকিকত তদারকি করবেন। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে এবার যে বিজেপি কতটা আত্মবিশ্বাসী ও মরিয়া, শাহের এই দীর্ঘ অবস্থান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সমীকরণ বিজেপির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এবার তাই প্রথম দফার ১৫২টি আসনে লড়াইয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে বাড়তি নজর দিচ্ছে দিল্লি। শাহের দাবি, প্রতিটি জনসভা থেকেই তিনি হুঙ্কার দিচ্ছেন— “এবার বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপিই”। আর সেই লক্ষ্যের দিকে এগোতে হলে দ্বিতীয় দফার এই কঠিন লড়াই জিততেই হবে গেরুয়া শিবিরকে।