ভোট করাতে ১৬ ঘণ্টার পাহাড়ি পথ! দার্জিলিংয়ের সবথেকে দুর্গম বুথে পৌঁছাতে ২ দিন আগেই রওনা কর্মীদের

গণতন্ত্রের উৎসব বলে কথা! ভোটার সংখ্যা যাই হোক না কেন, প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে এবার কার্যত পাহাড় জয়ের লড়াইয়ে নামলেন ভোট কর্মীরা। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। আর সেই ভোট করাতেই দার্জিলিংয়ের দুর্গমতম বুথে পৌঁছাতে ২ দিন আগেই ঘর ছাড়লেন নির্বাচন আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

১৬ ঘণ্টার সফর, গন্তব্য যখন ‘সামদেন ফরেস্ট’: দার্জিলিং বিধানসভার বিজনবাড়ি ব্লকের ৪ নম্বর পোলিং স্টেশনটি অবস্থিত সামদেন ফরেস্ট প্রাইমারি স্কুলে। মঙ্গলবার সকালেই দার্জিলিং কলেজ (DCRC) থেকে ইভিএম, ভিভিপ্যাটসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে রওনা দিয়েছেন চার ভোটকর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনীর একটি দল। দুর্গম চড়াই-উতরাই আর ঘন জঙ্গল পেরিয়ে এই বুথে পৌঁছাতে সময় লাগবে অন্তত ১৬ ঘণ্টা।

পুরো পরিকল্পনা একনজরে:

  • প্রথম দিন: মঙ্গলবার গাড়ি নিয়ে প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে ভোটকর্মীরা পৌঁছাবেন রামমাম প্রাইমারি স্কুলে। এটি একটি অস্থায়ী স্ট্রং রুম। মঙ্গলবার রাতটি সেখানেই কাটাবেন তাঁরা।

  • দ্বিতীয় দিন: বুধবার সকালে ফের শুরু হবে যাত্রা। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হবে মূল গন্তব্য— সামদেন ফরেস্ট প্রাইমারি স্কুলে।

  • ভোটের দিন: বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হবে মূল ভোটগ্রহণ। এই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা মাত্র ১৯১ জন।

চ্যালেঞ্জ যখন নেটওয়ার্কহীন পাহাড়: পাহাড়ের এই অংশে মোবাইলের টাওয়ার মেলা আকাশকুসুম কল্পনা। তাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিশেষ স্যাটেলাইট ফোন। দার্জিলিংয়ের মহকুমাশাসক বনমালী রায় জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্বিঘ্নে ভোট করানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আগে এমন দুর্গম বুথ তিনটি থাকলেও, বর্তমানে এই একটি কেন্দ্রেই পৌঁছাতে দু’দিন আগে রওনা দিতে হয়।