“মোদি ঠিকই বলেছেন!” ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিয়ে হুঙ্কার আমিরশাহির, হরমুজ নিয়ে চরম বার্তা

ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের হাই-ভোল্টেজ কূটনৈতিক বৈঠকের ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক মহলে বোমা ফাটাল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। ইরানকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদী মনোভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে তোপ দেগে আমিরশাহি স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধের অংশ না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওপর নির্বিচারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানকেই পূর্ণ সমর্থন জানাল মধ্যপ্রাচ্যের এই শক্তিশালী রাষ্ট্র।

“ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা”: বিস্ফোরক আমিরশাহি

আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাঈদ বিন মুবারক আল হাজেরি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান তাঁদের লক্ষ্য করে ২,৮০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হাজেরির কথায়, “এটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। আমরা তেলের টাকা খরচ করি শিক্ষা ও পরিকাঠামোয়, আর ওরা সেই টাকা ওড়ায় ড্রোন, মিসাইল আর জঙ্গি গোষ্ঠীর পেছনে। ওরা আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু এক দিনের জন্যও আমাদের জয়যাত্রা থামাতে পারেনি।”

হরমুজ প্রণালি ও মোদি ফ্যাক্টর

বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরেই সুর মেলাল আমিরশাহি। হাজেরি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি ঠিকই বলেছেন— এই পথ নিরাপদ রাখা জরুরি। বিশ্বের ২০-২৫ শতাংশ জ্বালানি ও খাদ্য সুরক্ষা এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কোনও শর্ত ছাড়াই এই জলপথ খুলে দিতে হবে, এটা আলোচনার বিষয় নয়, এটা প্রাথমিক দাবি।”

ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা

আমিরশাহিতে কর্মরত প্রায় ৫০ লক্ষ ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুবাই প্রশাসন। মন্ত্রী জানান, খোদ প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান হাসপাতালে গিয়ে আহত ভারতীয়দের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। হাজেরির আশ্বাস, “ভারতীয়দের সুরক্ষা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা নিয়মিত ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”

আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা ইরান?

আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগে আমিরশাহির এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তেহরানকে আন্তর্জাতিক স্তরে যথেষ্ট চাপে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ সমস্ত বিশ্বমঞ্চে ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এখন জনমত গড়ে তুলতে মরিয়া আমিরশাহি। ভারতের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই লড়াইয়ে আমিরশাহির নতুন রণকৌশল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনল।