ইরানে পরমাণু বোমা ফেলতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প! সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল বিশ্ব? ফাঁস হলো হোয়াইট হাউসের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। প্রথম দফার শান্তি আলোচনার আগে ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত মন্তব্য— “বিশ্বের বুক থেকে একটি সভ্যতা মুছে যাবে”— কার্যত পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিয়েছিল। এবার সিআইএ-র প্রাক্তন বিশ্লেষক ল্যারি জনসন দাবি করেছেন, ইরান যখন মার্কিন বিমান গুলি করে ধ্বংস করে, তখন ট্রাম্প এতটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে তিনি ইরানে পরমাণু হামলার সবুজ সংকেত দিয়ে ফেলেছিলেন।
জেনারেলের হস্তক্ষেপে রক্ষা:
খবর অনুযায়ী, মার্কিন জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ড্যান কেন এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। ট্রাম্প যখন কর্মকর্তাদের ওপর চিৎকার করছিলেন, তখন জেনারেল কেন এটিকে একটি “ঘৃণ্য পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন এবং ট্রাম্পকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, জেনারেল কেন অত্যন্ত বিমর্ষ মুখে মিটিং রুম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর আপত্তিতেই পরমাণু হামলার সম্ভাবনা ভেস্তে যায়।
ইসলামাবাদ বৈঠক ও অনিশ্চয়তা:
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠেছে:
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: “চুক্তি না হলে আমেরিকা বোমা ফেলবে।”
ইরানের পালটা হুঙ্কার: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গলিবাফ জানিয়েছেন, হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা হবে না। ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছেন।
যুদ্ধের প্রস্তুতি:
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গত দুই সপ্তাহ ধরে তারা যুদ্ধের যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। গলিবাফের কথায়, “যুদ্ধের ময়দানে আমরা নতুন পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত।” এই অবস্থায় ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ইরানের পালটা হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদ বৈঠককে বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মত: ট্রাম্পের ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা চরম পাগলামি কি স্রেফ আলোচনার টেবিলে ইরানকে চাপে ফেলার কৌশল, নাকি সত্যিই আমেরিকা যুদ্ধের পথে পা বাড়াচ্ছে— তা নিয়েই এখন চিন্তিত গোটা বিশ্ব।