বেহালার ব্যবসায়ীর ১১০০ কোটির ‘খেল’! জয় কামদারের ১৫০ অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা, নেপথ্যে কি পুলিশ যোগ?

বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতারের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যে তথ্যের পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়েছে, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় তদন্তকারীদের। কেবল জমি জালিয়াতিই নয়, এই চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে খোদ প্রশাসনের অন্দরমহলেও। ১৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ২৫টি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
১৫০ অ্যাকাউন্ট ও ‘প্রভাবশালী’ যোগ
ইডির দাবি, বাজেয়াপ্ত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর তালিকায় কেবল জয় কামদার বা সোনা পাপ্পু নন, নাম রয়েছে একাধিক পুলিশ অফিসার ও তাঁদের আত্মীয়দেরও। তদন্তে জানা গেছে, মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৫০০ কোটি টাকা জমা করা হয়েছে। একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যটিতে ৪০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করার ডিজিটাল প্রমাণও মিলেছে।
সোনা পাপ্পু-কামদার পার্টনারশিপ
কসবার বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব সোনা পাপ্পুর সঙ্গে জয়ের যোগসূত্র এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। জয়ের সংস্থা ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ এবং সোনা পাপ্পুর ‘এস পি কনস্ট্রাকশন’-এর মধ্যে দেড় কোটি টাকার সরাসরি লেনদেন হয়েছে। এমনকি সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর সংস্থার সঙ্গেও বড় অঙ্কের ট্রানজাকশন করেছেন জয়।
বন্দুকের নলে রহস্য
গত ১ এপ্রিল সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘিরেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ইডির দাবি, যে দোকান থেকে অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল, তার অন্যতম মালিক খোদ জয় কামদার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্র ও ৫০টি কার্তুজ কেনা হলেও, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পাপ্পুর স্ত্রী জানিয়েছেন তিনি কিছুই জানেন না! এমনকি লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি এই পরিবার।
ডিলিট করা মেসেজে কার নাম?
জয়ের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া দুটি আইফোন এখন ইডির তুরুপের তাস। গ্রেফতারির ঠিক আগে সেখান থেকে বহু মেসেজ ও কল রেকর্ড ডিলিট করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকা এই ব্যবসায়ীর মুখ খুললে অনেক হেভিওয়েটের নাম সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্দরমহলের খবর: কসবা থেকে বেহালা— এই বিশাল জমি সাম্রাজ্যের দখল কার হাতে ছিল? কেবল জয় কামদার কি শিখণ্ডী, নাকি এর পিছনে রয়েছেন কোনো ‘বড় মাথা’? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলা।