“প্রতি ৪ জনে ১ জন অপরাধী!”-নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বিস্ফোরক রিপোর্ট, কোন দলে কত অভিযুক্ত?

বঙ্গভোটের প্রথম দফার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক তার ৪৮ ঘণ্টা আগে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর একটি রিপোর্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ মানুষের। দেখা যাচ্ছে, ভোট ময়দানে যেমন দাপট রয়েছে বাহুবলীদের, তেমনই পাল্লা দিচ্ছে ধনকুবেররা।

অপরাধের পরিসংখ্যান: খুনের মামলাও আছে!

রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মোট ১,৪৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৩৮ জন (২৩%) প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। অর্থাৎ প্রতি ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনই মামলার জাঁতাকলে। এর মধ্যে আরও ভয়াবহ তথ্য হলো:

  • ২৯৫ জন (২০%) প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ।

  • ১৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের মামলা রয়েছে।

  • ৮০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের চেষ্টার অভিযোগ।

কোন দলে অভিযুক্ত কতজন? (দলভিত্তিক খতিয়ান)

রাজনৈতিক দলগুলির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই রিপোর্ট। দলভিত্তিক অভিযুক্তের তালিকায় কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

  • বিজেপি: ১৪১ জনের মধ্যে ১০২ জন (৭২%)

  • সিপিআইএম: ১০০ জনের মধ্যে ৫১ জন (৫১%)

  • তৃণমূল কংগ্রেস: ১৪২ জনের মধ্যে ৪৯ জন (৩৫%)

  • কংগ্রেস: ১৪২ জনের মধ্যে ৩৭ জন (২৬%)

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৪২টি আসনের মধ্যে ৬৩টি আসনকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন, কারণ সেখানে ৩ বা তার বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

টাকার খেলা: কোটিপতির দৌড়ে এগিয়ে কে?

নির্বাচনে শুধু পেশিশক্তি নয়, অর্থশক্তির প্রদর্শনীও চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের ২২ শতাংশই কোটিপতি। অর্থাৎ প্রতি ৫ জনে ১ জন প্রার্থী ১ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির মালিক।

  • তৃণমূল কংগ্রেস: দলের সর্বাধিক ৭৩% প্রার্থী কোটিপতি।

  • বিজেপি: ৫২% প্রার্থী কোটিপতি।

  • সিপিআইএম: ৩৩% প্রার্থী কোটিপতি।

  • কংগ্রেস: ২৫% প্রার্থী কোটিপতি।

গড় সম্পদের হিসেবে টেক্কা দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির

রিপোর্ট বলছে, এই দফায় প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ ১.২১ কোটি টাকা। তবে দলগতভাবে দেখলে তৃণমূল প্রার্থীদের গড় সম্পদ সবথেকে বেশি, প্রায় ৫.০৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি (৩.২৮ কোটি), তৃতীয় স্থানে সিপিএম (১.২২ কোটি) এবং শেষে কংগ্রেস (১.০৪ কোটি)।

ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগে এই তথ্যগুলি ভোটারদের ভাবাবে কি না, সেটাই এখন দেখার। পেশিশক্তি না কি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি— শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর মিলবে ৪ মে।