তৃণমূলের ৮০০ নেতা-কর্মীর তালিকা নিয়ে কোর্টে তোলপাড়! লালবাজারের এক নির্দেশে ঘুম উড়ল রাজনীতিকদের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। এবার স্পষ্ট বার্তা—যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট ঝুলে রয়েছে, তাদের আর রেয়াত করা হবে না। ভোট ঘোষণার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছে লালবাজার।
থানাগুলোকে কড়া নির্দেশ লালবাজারের: কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার নির্দেশে শহরের প্রতিটি থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। এতদিন শুধুমাত্র জামিন অযোগ্য (Non-bailable) পরোয়ানা নিয়ে কড়াকড়ি থাকলেও, এবার জামিনযোগ্য পরোয়ানাগুলির ক্ষেত্রেও কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে লালবাজার। কমিশন আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে। এবার সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিল পুলিশ প্রশাসন।
তৃণমূলের ৮০০ নেতার তালিকা ও আদালত আতঙ্ক: কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তায় ব্যাপক ধরপাকড়ের আশঙ্কা করছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। তৃণমূলের দাবি, রাজ্য জুড়ে প্রায় ৮০০ নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এই তালিকায় শুধুমাত্র সাধারণ কর্মী নন, রয়েছেন:
-
সাংসদ ও বিধায়ক
-
পুরসভার চেয়ারম্যান
-
জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য
তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ থেকে শুরু করে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর আশঙ্কা, পুরনো মামলার অজুহাতে তাদের ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। দল ইতিমধ্যেই আদালতের কাছে জেলাভিত্তিক নামের তালিকা জমা দিয়েছে।
নিরাপত্তায় আকাশপথ ও কড়া শৃঙ্খলা: নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। অসুস্থ ভোটকর্মী বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য রাখা হয়েছে দুটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়া নজরদারির জন্য তৈরি থাকছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার। অন্যদিকে, পুলিশকর্মীদের সাফ জানানো হয়েছে—ভোটের সময় তারা সবাই কমিশনের অধীনে। ডিউটিতে গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে: বিজেপির অভিযোগ, বহু দাগী অপরাধী এখনও অধরা, তাই দ্রুত গ্রেফতারি প্রয়োজন। পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোট শুরুর আগেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে।