ঘর হবে দূষণমুক্ত ও পজিটিভ! নার্সারি নয়, রান্নার বোতলেই বেড়ে উঠবে এই ৫টি গাছ

শহর জীবনে একচিলতে সবুজের ছোঁয়া পেতে মাটির ঝক্কি আর রোদের অভাব এখন আর বাধা নয়। যারা ফ্ল্যাটে থাকেন বা যাদের বাগান করার শখ থাকলেও মাটির নোংরা হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে আসেন, তাদের জন্য মুশকিল আসান হতে পারে ‘ইনডোর ওয়াটার গার্ডেনিং’। সামান্য জল আর ভালোবাসা পেলেই আপনার ড্রয়িং রুম কিংবা অফিস ডেস্ক হয়ে উঠতে পারে অরণ্য।

মাটি ছাড়াই জাদুকরীভাবে বেড়ে ওঠে এমন কিছু ইনডোর প্ল্যান্টের হদিশ রইল আজকের প্রতিবেদনে:

১. মানি প্ল্যান্ট বা পোথোস

তালিকায় প্রথমেই থাকে সবার প্রিয় মানি প্ল্যান্ট। কাঁচের বোতল বা জারে শুধু জল দিয়ে একটি কাটিং রেখে দিলেই কেল্লাফতে! এটি বাতাস থেকে টক্সিন দূর করে ঘরকে সতেজ রাখে।

২. লাকি ব্যাম্বু

নামে বাঁশ হলেও এটি আদতে ড্রাকেনা প্রজাতির গাছ। বাস্তু মতে এটি সৌভাগ্যের প্রতীক। ছোট ছোট পাথর কুচি আর জলের মধ্যে এটি দেখতে অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ লাগে।

৩. স্পাইডার প্ল্যান্ট ও সিঙ্গোনিয়াম

স্পাইডার প্ল্যান্ট বাতাসের কার্বন-মনোক্সাইড শুষে নেয়। অন্যদিকে, তীরের ফলার মতো দেখতে সিঙ্গোনিয়াম বা অ্যারোহেড প্ল্যান্ট ঘরের কোণে এক নান্দনিক লুক এনে দেয়। তবে মনে রাখবেন, সিঙ্গোনিয়াম কিন্তু শিশু ও পোষ্যদের থেকে দূরে রাখা ভালো।

৪. কোলিয়াস ও ইংলিশ আইভি

রঙিন পাতার মায়ায় যারা মজে আছেন, তারা কোলিয়াস ট্রাই করতে পারেন। এছাড়া লতানো ইংলিশ আইভি জলের জারে রাখলে ঘরের আভিজাত্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৫. ফিলোডেনড্রন ও মন্সটেরা

আভিজাত্য আর ট্রপিক্যাল ভাইব চাইলে এই দুই গাছের জুড়ি মেলা ভার। বড় বড় পাতা আপনার ঘরের একঘেয়েমি দূর করবে নিমেষেই।


জলে গাছ বাঁচিয়ে রাখার গোপন টিপস:

  • জলের যত্ন: সপ্তাহে অন্তত একবার জল বদলে দিন যাতে কোনোভাবেই শ্যাওলা না জমে বা মশার উপদ্রব না হয়।

  • আলোর কারসাজি: সরাসরি কড়া রোদ নয়, বরং জানলার ধারের উজ্জ্বল পরোক্ষ আলো এই গাছগুলোর জন্য আদর্শ।

  • পুষ্টি: মাসে একবার মাত্র ২-৩ ফোঁটা লিকুইড ফার্টিলাইজার জলে মিশিয়ে দিন, এতে পাতা হবে আরও সবুজ ও চকচকে।

  • সাজসজ্জা: সাধারণ কাঁচের জারে রঙিন নুড়ি বা পাথর দিয়ে সাজিয়ে নিন, যা আপনার ঘরকে দেবে প্রিমিয়াম লুক।