২২ এপ্রিল খুলছে কেদারনাথের দরজা! শিবলিঙ্গে কেন লাগানো হয় ৬ লিটার ঘি? জানুন ‘ভীষ্ম শৃঙ্গার’-এর রহস্য

প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়া মানেই উত্তরাখণ্ডের পুণ্যভূমি চারধাম যাত্রার সূচনা। গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীর দরজা ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার আগামী ২২ এপ্রিল ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলে দেওয়া হবে বাবা কেদারনাথের মন্দিরের দ্বার। কিন্তু জানেন কি, দীর্ঘ শীতঘুমের পর মন্দির খোলার পর প্রথমেই মহাদেবের শরীর থেকে একটি বিশেষ আবরণ সরানো হয়? ধর্মমতে যাকে বলা হয় ‘ভীষ্ম শৃঙ্গার’।
কী এই ভীষ্ম শৃঙ্গার? কেন করা হয়?
শীতকালে কেদারনাথ ধাম যখন প্রবল তুষারপাতে ঢেকে যায়, তখন সাধারণ মানুষের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করার আগে শিবলিঙ্গের ওপর দেওয়া হয় ৬ লিটার খাঁটি ঘিয়ের প্রলেপ। এরপর একটি সাদা সুতির কাপড় দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয় লিঙ্গটিকে। এটিই হলো ‘ভীষ্ম শৃঙ্গার’। প্রচণ্ড ঠান্ডায় এবং বরফের প্রকোপে যাতে প্রস্তর নির্মিত শিবলিঙ্গের কোনো ক্ষতি না হয় এবং তা প্রাকৃতিক রূপে বজায় থাকে, তার জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন।
৫ ঘণ্টার কঠিন নিয়ম ও কর্ণাটকের যোগ:
বাবা কেদারনাথের এই বিশেষ শৃঙ্গার করার দায়িত্ব পালন করেন কর্ণাটকের বীরশৈব লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের পুরোহিতরা। মন্দির বন্ধের আগে প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলে এই প্রক্রিয়া। শৃঙ্গারের পর বাবা কেদারনাথকে মরসুমি ফল ও ড্রাই ফ্রুটসের ভোগ দেওয়া হয়, যাকে শাস্ত্রীয় ভাষায় বলা হয় ‘আর্ঘা’।
দরজা খোলার মাহেন্দ্রক্ষণ:
২২ এপ্রিল যখন পুনরায় মন্দিরের দরজা খোলা হবে, তখন এই একই পুরোহিতরা সবার আগে ভীষ্ম শৃঙ্গার বা ঘিয়ের প্রলেপটি সরিয়ে ফেলবেন। এরপর বিশেষ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে গঙ্গাজল ও পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করানো হবে মহাদেবকে। নতুন ফুল, ভস্ম আর চন্দনের তিলকে সেজে উঠবেন কেদারনাথ। তারপরই সাধারণ ভক্তরা বিগ্রহ দর্শনের সুযোগ পাবেন।
যাত্রীদের জন্য সতর্কতা:
আপনিও যদি এবার চারধাম যাত্রার পরিকল্পনা করেন, তবে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সেরে নিন। পাহাড়ি আবহাওয়া এবং ভিড়ের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ গাইডলাইন জারি করা হয়েছে।