ভোটের আগে পুলিশের ‘সারপ্রাইজ রেইড’! এক রাতেই খাঁচায় ১৩৫ দাগি অপরাধী, থরহরি কম্প চোর-দুষ্কৃতীদের

২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই বাংলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাল প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরেই রাতারাতি অ্যাকশনে পুলিশ। এক রাতের ব্লকবাস্টার অভিযানে রাজ্যের চার জেলা থেকে মোট ১৩৫ জন দাগি অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপারেশনের ব্লু-প্রিন্ট:
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এমন কাউকেই ভোটের সময় বাইরে রাখা যাবে না। সেই নির্দেশ হাতে পেতেই আঁটঘাঁট বেঁধে নামে পুলিশ। থানাভিত্তিক ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এবং ‘দাগি’ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়।

টার্গেট ছিল যে ৪ জেলা:
পুলিশ সূত্রে খবর, এই পরিকল্পিত হানা চালানো হয়েছে মূলত অপরাধপ্রবণ ও স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে:

কোচবিহার

মালদা

মুর্শিদাবাদ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা

রাতভর ধড়পাকড়:
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ে ওই চার জেলার বিভিন্ন থানার পুলিশ দুষ্কৃতীদের ডেরায় হানা দেয়। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কোনো রকম সুযোগ না দিয়েই সরাসরি বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়েছে ১৩৫ জন পুরনো অপরাধীকে। মূলত ভোটের সময় যাতে এই সিন্ডিকেটগুলো সক্রিয় হয়ে অশান্তি পাকাতে না পারে, সেটাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

কমিশনের কড়া বার্তা:
ভোটের আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক দিন বাকি। এর আগেই ভোটার স্লিপ বিলি এবং বুথ এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি শুরু হয়েছে। তার ওপর এই বড়সড় ধরপাকড় প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, এবারের ভোটে অশান্তি রুখতে কোনো ঝুঁকিই নিতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন।

প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এর ফলে অশান্ত এলাকাগুলোতে কিছুটা হলেও স্বস্তির পরিবেশ ফিরবে এবং সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারবেন।