স্কুলবাস কন্ডাক্টর থেকে পথচারী— বারবার অশালীন আচরণের শিকার জেমি লিভার! মুখ খুললেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান

পর্দায় তাঁর মিমিক্রি দেখে হাসিতে ফেটে পড়েন দর্শকরা। কিন্তু অভিনেতা জনি লিভারের কন্যা জেমি লিভারের শৈশবটা মোটেও হাসিখুশি ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেমি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় একাধিকবার অশালীন আচরণ ও যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে, দীর্ঘদিন তিনি পুরুষদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেন।
স্কুল জীবনের সেই দুঃস্বপ্ন:
জেমির বয়ান অনুযায়ী, মুম্বইয়ে স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতা ছিল বিভীষিকাময়। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই তাঁকে কুরুচিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে:
স্কুলের বাইরে হেনস্থা: একদিন স্কুলের বাইরে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার সময় এক ব্যক্তি তাঁর সামনে চরম অশালীন অঙ্গভঙ্গি শুরু করেন। ভয়ে কাঁপতে থাকা ছোট্ট জেমি কোনোমতে গাড়ির দরজা লক করে নিজেকে রক্ষা করেন।
রক্ষকই যখন ভক্ষক: জেমির আরও অভিযোগ, যাঁদের ওপর শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে, সেই স্কুলবাস কন্ডাক্টরও তাঁদের কুৎসিতভাবে স্পর্শ করত।
স্টেশনের সেই ঘটনা ও ট্রমা:
অন্ধেরি স্টেশনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, একবার প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যক্তি তাঁর পথ আটকে দাঁড়িয়ে অশালীন আচরণ করেন। এই একের পর এক ঘটনা জেমিকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন, “বছরের পর বছর আমি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলাম। কোনো পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা বা সম্পর্কে জড়ানোর কথা ভাবতেই আমার শরীর ঘিনঘিন করত।”
লন্ডনে মিলল মুক্তি:
জেমির এই মানসিক ট্রমা কাটতে শুরু করে যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান। সেখানকার পরিবেশ এবং কাউন্সেলিং তাঁকে পুরনো স্মৃতি ঝেড়ে ফেলে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। বর্তমানে তিনি সেই ভয়কে জয় করে বিনোদন জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
২০১৫ সালে বলিউডে অভিষেকের পর আজ জেমি লিভার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মিমিক্রি ও কমেডির মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের মন জয় করছেন। জেমির এই সাহসিকতা প্রমাণ করে যে, অন্ধকার অতীত পেরিয়েও নিজের চেষ্টায় আলোর পথে আসা সম্ভব।