আজই কি ভাগ্য বদলানোর দিন? অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনা থেকে দান-ধ্যান, জেনে নিন কেন এই দিনটি এত মাহাত্ম্যপূর্ণ!

আজ পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া। হিন্দু ধর্মে দিনটি কেবল শুভ নয়, বরং ‘অক্ষয়’ বা যার কোনো বিনাশ নেই—এমনই এক বিশেষ তিথি হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের এই তৃতীয়ায় দেশের কোণায় কোণায় যেমন উৎসবের মেজাজ, তেমনই বাজারজুড়ে সোনা-রুপো কেনার ধুম। তবে কেবল কেনাকাটা নয়, এই দিনের নেপথ্যে জড়িয়ে আছে একাধিক অবিশ্বাস্য পৌরাণিক ইতিহাস।
কেন আজ অক্ষয় তৃতীয়া পালন করবেন?
পুরাণ মতে, আজকের দিনটি নানা কারণেই অলৌকিক। এই তিথিতেই ঘটেছিল এমন কিছু ঘটনা, যা আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি:
যুগের সূচনা: আজই সত্য যুগের অবসান ঘটে ত্রেতা যুগের সূচনা হয়েছিল।
পরশুরাম জয়ন্তী: ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্মতিথি আজই।
গঙ্গা মর্ত্যে আগমন: ভগীরথের কঠোর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে গঙ্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন এই দিনেই।
মহাভারত ও অক্ষয় পাত্র: ব্যাসদেব আজ থেকেই মহাভারত রচনা শুরু করেন। আবার বনবাসে থাকা পাণ্ডবদের খাদ্যাভাব মেটাতে দ্রৌপদীকে এই দিনেই ‘অক্ষয় পাত্র’ দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।
রথযাত্রার প্রস্তুতি: পুরীর জগন্নাথ ধামে রথযাত্রার রথ নির্মাণের কাজ আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
সোনা কেনা ও দান-ধ্যানের মাহাত্ম্য:
অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা বা রূপো কেনাকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এদিন বহুমূল্য ধাতু কিনলে ঘরে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী বসতি হয় এবং অক্ষয় সমৃদ্ধি আসে। তবে কেবল ভোগ নয়, ত্যাগের মাহাত্ম্যও কম নয়:
শাস্ত্র মতে, এই দিনে অভাবীকে অন্নদান, গরুকে সেবা করা এবং পুণ্য অর্জনের লক্ষ্যে দান-ধ্যান করলে মানুষের যাবতীয় পাপ মোচন হয় এবং মৃত্যুর পর অক্ষয় স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটে।
হালখাতা ও ব্যবসায়িক শুভসূচনা:
বাঙালির কাছে অক্ষয় তৃতীয়া মানেই নতুন খাতার পুজো বা ‘হালখাতা’। নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য আজকের চেয়ে আদর্শ সময় আর হয় না। যারা জীবনের জটিলতা কাটাতে চান, তাঁদের জন্য আজকের দিনটি প্রার্থনা ও সংকল্পের সেরা সময়।
আজকের এই পবিত্র তিথি আপনার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এটাই আমাদের কামনা।