রেলযাত্রীদের জন্য দারুণ খবর! ভাগলপুর রুটে বড়সড় বদল আনল পূর্ব রেল, এবার সুপারফাস্ট হবে সফর?

ভারতীয় রেলকে দেশের ‘লাইফলাইন’ বলা হয়। আর সেই লাইফলাইনকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করতে বড়সড় প্রযুক্তিগত আপডেট নিয়ে এল পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশন। অত্যাধুনিক ইন্টারমিডিয়েট ব্লক সিগন্যালিং (IBS) এবং ডাবল ডিস্ট্যান্স সিগন্যালিং ব্যবস্থার হাত ধরে এবার ট্রেনের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই সুনিশ্চিত হবে যাত্রীদের নিরাপত্তা।
কী এই নতুন ব্যবস্থা?
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, নাথনগর ও আখবারনগর স্টেশনের মধ্যবর্তী ছিট মাকান্দপুরে নতুন IBS ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে দুটি ট্রেনের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই লাইনের ধারণক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ, একই লাইনে আগের চেয়ে দ্রুত ব্যবধানে ট্রেন চালানো যাবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন নিত্যযাত্রীরা।
এক নজরে রেলের এই আধুনিকীকরণ:
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর ও মালদা ডিভিশনের DRM মনীশ কুমার গুপ্তের তত্ত্বাবধানে এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই প্রকল্পের মূল দিকগুলি হলো:
ট্রেন চলাচলে গতি: ভাগলপুর (কিউল প্রান্ত) থেকে আখবারনগর পর্যন্ত ডাবল ডিস্ট্যান্স সিগন্যালিং চালুর ফলে ট্রেনের বিলম্ব কমবে।
নিরাপদ লেভেল ক্রসিং: গেটগুলোতে ইন্টারলকড গেট স্টপ সিগন্যাল লাগানো হয়েছে, যা রেল ও সড়ক—উভয় যাতায়াতকেই সুরক্ষিত করবে।
অপারেশনাল নমনীয়তা: ভাগলপুর, নাথনগর ও আখবারনগর স্টেশনে সিগন্যাল বিন্যাসে বদল আনা হয়েছে, ফলে ট্রেন নিয়ন্ত্রণ হবে অনেক বেশি নিখুঁত।
সাফল্যের খতিয়ান:
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মালদা ডিভিশনের এটিই প্রথম IBS কমিশনিং। ২০২৬ সালে সামগ্রিকভাবে এটি ছিল পঞ্চম বড় উদ্যোগ। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলেছে নূন্যতম ‘ট্রাফিক ব্লক’ নিয়ে। ফলে ট্রেন চলাচলের স্বাভাবিক ছন্দে কোনো বড় ব্যাঘাত ঘটেনি।
রেলের এই আধুনিকীকরণের ফলে শুধু সময় বাঁচবে তাই নয়, যান্ত্রিক ত্রুটি বা সিগন্যালিং সমস্যার কারণে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবেন সাধারণ মানুষ। পূর্ব রেলের এই ‘টেক-গেম’ আগামী দিনে যাত্রী পরিষেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।