“৩০ সেকেন্ডেই ধরা পড়বে ভেজাল!” অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিন এই গোপন চিহ্ন

সোনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৩টি প্রধান উপায়

অক্ষয় তৃতীয়ার ভিড়ে তাড়াহুড়ো না করে বিল করানোর আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:

১. BIS হলমার্ক এবং HUID কোড (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ): এখন কেবল ‘হলমার্ক’ থাকলেই চলে না। প্রতিটি গয়নার গায়ে লেন্স দিয়ে চেক করুন ৩টি চিহ্ন আছে কি না:

  • BIS লোগো (ত্রিভুজাকৃতি চিহ্ন)।

  • বিশুদ্ধতার মান (যেমন— ২২ ক্যারেটের জন্য ২২K৯১৬ বা ১৮ ক্যারেটের জন্য ১৮K৭৫০)।

  • HUID কোড: এটি একটি ৬ অক্ষরের আলফানিউমেরিক কোড। ‘BIS Care’ অ্যাপে এই কোডটি দিলেই আপনি গয়নার ওজন, বিশুদ্ধতা এবং দোকানের নাম দেখতে পাবেন।

২. XRF মেশিনে পরীক্ষা (বিনা খরচে যাচাই): প্রতিটি নামী গয়নার দোকানেই এখন XRF (X-ray fluorescence) মেশিন থাকে। বিল তৈরি হওয়ার আগে আপনার অধিকার রয়েছে ওই মেশিনে গয়নাটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার। এতে গয়নার কোনো ক্ষতি হয় না এবং মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ধরা পড়ে যায় সোনাটি ঠিক কত ক্যারেটের এবং তাতে অন্য কোনো ধাতু মেশানো আছে কি না।

৩. অ্যাসিড ও পাথরের পরীক্ষা (পুরানো পদ্ধতি): যদি কোনো ছোট দোকানে পরীক্ষা করার আধুনিক মেশিন না থাকে, তবে তারা কষ্টিপাথরে ঘষে অ্যাসিড টেস্ট করে। আসল সোনা অ্যাসিডের সংস্পর্শে এলে রঙ পরিবর্তন করে না। তবে আধুনিক যুগে HUID এবং XRF পরীক্ষাই সবথেকে নির্ভরযোগ্য।


ক্রেতাদের জন্য বিশেষ টিপস

  • পাকা বিল নিশ্চিত করুন: বিলে অবশ্যই সোনার ওজন, ওই দিনের সোনার দর, মেকিং চার্জ এবং জিএসটি (GST) আলাদাভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। সঙ্গে HUID নম্বরটি বিলে লেখাতে ভুলবেন না।

  • ক্যারেট বুঝুন: বিনিয়োগের জন্য ২৪ ক্যারেট (কয়েন বা বার) সেরা, আর গয়নার জন্য সাধারণত ২২ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেট ব্যবহার করা হয়।

  • বাই-ব্যাক পলিসি: কেনার সময় জেনে নিন ভবিষ্যতে ওই দোকানে সোনা ফেরত দিলে বা বদলালে তারা কত শতাংশ টাকা দেবে।

উপসংহার: অক্ষয় তৃতীয়া মানেই কেবল কেনাকাটা নয়, এটি একটি সঞ্চয়। তাই আপনার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে সোনা কেনার সময় এই ছোট বিষয়গুলো যাচাই করে নিলে উৎসবের আনন্দ হবে দ্বিগুণ।