যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপেও অপ্রতিরোধ্য ইরান! ড্রোন ও মিসাইল শক্তির নেপথ্যে লুকিয়ে কোন সিক্রেট?

পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ১৩ হাজারেরও বেশি টার্গেটে হামলা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার—তবুও ইরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের ভয়াবহতা সত্ত্বেও ইরানের প্রায় ৪০% ড্রোন এবং ৬০% লঞ্চার এখনও পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
অক্ষত শক্তির নেপথ্যে: ‘শুটিং অ্যান্ড মুভিং’ কৌশল
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র (CNN-এর বরাত দিয়ে) জানিয়েছে, ইরান তাদের লঞ্চার ও ড্রোন ঘাঁটিগুলোকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত উন্নত ‘শুটিং অ্যান্ড মুভিং’ (Shoot and Move) পদ্ধতি ব্যবহার করছে। অর্থাৎ, একবার হামলা করার পরপরই তারা মোবাইল লঞ্চারগুলোকে দ্রুত সরিয়ে ফেলছে, যার ফলে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
কেন অটুট ইরানের সামরিক শক্তি?
বিশ্লেষকরা তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
-
আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি ও টানেল: ইরানের ড্রোন ও মিসাইল মজুত রাখা হয় পাহাড়ের গভীরে তৈরি বিশালাকার টানেল ও ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি’-তে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তারা ধসে যাওয়া টানেলের মুখগুলো সরিয়ে ফের সামরিক কার্যক্রম সক্রিয় করছে।
-
বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থা: ইরানের ড্রোন বা মিসাইল কোনো একটি নির্দিষ্ট কারখানায় তৈরি হয় না। ছোট ছোট যন্ত্রাংশ দেশের বিভিন্ন গোপন কেন্দ্রে তৈরি হয়, যা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
-
লো-কস্ট টেকনোলজি: ইরানের ‘শাহিদ’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা কিন্তু কার্যকর। বড় কোনো প্ল্যান্ট ধ্বংস হলেও ইরান খুব দ্রুত সাধারণ ওয়ার্কশপে এগুলো নতুন করে তৈরি করতে সক্ষম।
ভয় কাটে নেই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর
গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ইরান এখনও প্রতিদিন ইসরায়েল ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর ১৫ থেকে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৫০ থেকে ১০০টি ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ব্যবহারের হার কমিয়ে দিয়েছে যাতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য বড় একটি অংশ সঞ্চয় করে রাখা যায়।
উপসংহার: যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া, কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে—তেহরানের ড্রোন ও মিসাইল ভাণ্ডার এখনও এক বড় হুমকি। এই শক্তি হাতে রেখেই সম্ভবত আলোচনার টেবিলে নিজেদের ‘মর্যাদা’ বজায় রাখতে চাইছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।