যুদ্ধবিরতি কি তবে স্থায়ী হচ্ছে? ইসরায়েল-আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বড় ঘোষণা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামবে নাকি আরও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নেবে, তা নিয়ে যখন বিশ্ব রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই বড় এক কূটনৈতিক বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে শান্তির পথ হতে হবে ‘মর্যাদাপূর্ণ’। রবিবার ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে তিনি পরিষ্কার করেন যে, মাথা নত করে কোনো শান্তি চুক্তিতে যাবে না তেহরান।
ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প আমাদের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছেন। কিন্তু তিনি এটা বলার কে? কোন অপরাধের কারণে একটি জাতিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে?” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নে ইরান কোনো আপস করতে রাজি নয়।
শান্তি ও যুদ্ধ অবসানের তিন শর্ত
ইরানি প্রেসিডেন্ট জানান, তাঁরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, তবে যুদ্ধ শেষ করতে হলে তিনটি মৌলিক শর্ত মানতে হবে:
-
ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি: ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশটির বৈধ অধিকার মেনে নিতে হবে।
-
ক্ষতিপূরণ প্রদান: যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
-
নিরাপত্তার গ্যারান্টি: ভবিষ্যতে ইরান বা তার স্বার্থের ওপর আর কোনো হামলা হবে না—এমন আন্তর্জাতিক ও স্থায়ী নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি “নতুন প্রটোকল” আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি—অপর পক্ষ যদি শর্ত ভঙ্গ করে হামলা চালায়, তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
উপসংহার: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেজেশকিয়ানের এই বার্তা মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল। ইসলামাবাদে আগামী অধিবেশনে স্থায়ী শান্তির পথে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।