মৃতদেহ নিয়ে লুকোচুরি! খামেনির শেষকৃত্য থমকে কেন? শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

নিথর দেহ পড়ে আছে প্রায় দুই মাস, কিন্তু আজও শেষ বিদায় জানানো হয়নি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আল খামেনিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু ৫০ দিন পার হয়ে গেলেও কেন তাঁকে সমাধিস্থ করা হলো না? এই প্রশ্নটিই এখন তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে কুঁকড়ে দিচ্ছে ইরানি কর্মকর্তাদের।
দাফন থমকে যাওয়ার নেপথ্যে কি নিরাপত্তা ঝুঁকি?
ইরানি প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যের জন্য যে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাকে ‘সুরক্ষিত’ রাখা অসম্ভব বলে মনে করছে দেশটির নিরাপত্তা কাউন্সিল।
-
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়: ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ জানাজা চলাকালীন ড্রোন হামলা চালাতে পারে—এই গভীর আতঙ্কে ভুগছে আইআরজিসি (IRGC)।
-
পবিত্র মাশহাদ ও সুরক্ষার সংকট: খামেনিকে তাঁর জন্মভূমি পবিত্র শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে সমাধিস্থ করার কথা থাকলেও, সেখানে ড্রোন থ্রেট এখনও কাটেনি।
রহস্যময় ‘অন্তবর্তী’ অবস্থা
একটি অসমর্থিত সূত্র দাবি করছে, খামেনির দেহ বর্তমানে একটি উচ্চ-প্রযুক্তির কোল্ড স্টোরেজ বা গোপন টানেলে রাখা হয়েছে। তবে জল্পনা আরও গভীরে—অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, নতুন নেতা হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির ক্ষমতা দখল সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক না হওয়া পর্যন্ত এই দাফন প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে।
ভয়ে সিটিয়ে ইরানি কর্তারা!
শোনা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং ‘তিলোত্তমার বিচার’ (আরজি কর প্রসঙ্গ) আন্দোলনের মতো কোনো নাগরিক অস্থিরতা খামেনির জানাজা থেকে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। দেশের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বড় কোনো ধর্মীয় জমায়েত হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার: ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী দ্রুত দাফনের নিয়ম থাকলেও, খামেনির ক্ষেত্রে সেই রীতি কেন ভাঙা হচ্ছে? এটি কি শুধুই নিরাপত্তা ঝুঁকি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? বিশ্ববাসী এখন সেই উত্তরই খুঁজছে।