২০২৬ নির্বাচনের মুখে সংঘাত তুঙ্গে! প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে চিঠি বামেদের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর দেশজুড়ে ‘আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) জারি রয়েছে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক একটি ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদের ঝড় তুলল বামফ্রন্ট। সিপিআইএম সাংসদ পি সান্দোশ কুমার এবং বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্ব আজ, ১৯ এপ্রিল, নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন।

বামেদের চিঠিতে ঠিক কী অভিযোগ করা হয়েছে? বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে মূলত ৩টি বড় অভিযোগ তোলা হয়েছে:

  • সরকারি মাধ্যমের অপব্যবহার: প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি আকাশবাণী বা দূরদর্শনের মতো সরকারি প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রচারিত হয়েছে। বামেদের দাবি, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট জারি হওয়ার পর সরকারি সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যায় না।

  • রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্য: বামেদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ওই ভাষণ ছিল আগাগোড়া “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। সেখানে সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণ করা হয়েছে, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।

  • নির্বাচনী গাইডলাইন লঙ্ঘন: কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দল বা সরকারি পদাধিকারীরা নির্বাচনের আগে কোনো বিশেষ প্রচার সুবিধা পেতে পারেন না। বামেদের মতে, প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ম সরাসরি লঙ্ঘন করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি লড়াই: বামফ্রন্টের দাবি, অবিলম্বে ওই ভাষণের ভিডিও বা অডিও সব ধরণের ডিজিটাল ও সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্বাচনী প্রচার করেননি, বরং সরকারি দায়িত্ব পালনে জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল ও তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কমিশন এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার। সাধারণত এই ধরণের অভিযোগে কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর নোটিশ জারি করে।


আদর্শ আচরণবিধি কী বলে?

  • ১. সরকারি সম্পদ: বিমান, যানবাহন বা প্রচার যন্ত্র কোনোটিই কোনো দলের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।

  • ২. ভাষণ ও বিজ্ঞাপন: সরকারি খরচে কোনো কৃতিত্বের বিজ্ঞাপন বা ভাষণ দেওয়া নিষিদ্ধ।

  • ৩. নিরপেক্ষতা: সংবাদমাধ্যম বিশেষ করে সরকারি মাধ্যমকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বজায় রাখতে হবে।

উপসংহার: নির্বাচনের ময়দানে প্রতিটি পদক্ষেপ এখন আতসকাঁচের নিচে। বামফ্রন্টের এই চিঠি ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।