তৃণমূলে থেকে পদ্ম-যোগ! মন্তেশ্বরের জনসভা থেকে কার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্র যখন ক্রমশ তপ্ত হচ্ছে, ঠিক তখনই দলের অন্দরের ‘বিভীষণ’দের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মন্তেশ্বরের জনসভা থেকে মেজাজ হারিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন দলেরই এক নেতার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

মমতার নিশানায় কে? এদিন জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, দলেরই এক প্রভাবশালী নেতা তাঁর কাছে নির্বাচনের টিকিট চেয়েছিলেন। কিন্তু টিকিট না পেয়ে তিনি এখন তলে তলে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করছেন। মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন:

  • “আমার কাছে এসে টিকিট চেয়েছিল। আমি দিইনি বলে এখন বিজেপির দালালি করবে? এটা বরদাস্ত করা হবে না।”

  • “দলে থেকে যারা বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ।”

কড়া বার্তা ক্যাডারদের প্রতি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বেইমানদের চিহ্নিত করার সময় এসেছে। যারা গদ্দারি করবে, তাদের বিরুদ্ধে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, যারা লড়াইয়ের ময়দানে আসল সৈনিক, দল কেবল তাদেরই মূল্যায়ন করবে।

বিজেপির সঙ্গে ‘যোগসাজশ’ নিয়ে তোপ: বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বিজেপি টাকা দিয়ে তৃণমূলের নেতাদের কিনতে চাইছে। কিন্তু মনে রাখবেন, সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। গুটিকয়েক নেতা চলে গেলে তৃণমূলের কিছু যায় আসে না।”

রাজনৈতিক গুরুত্ব: রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্তেশ্বরের এই কড়া বার্তা আসলে জেলা স্তরের কোন্দল মেটানোর একটি বড় দাওয়াই। নির্বাচনের মুখে দলবিরোধী কাজ রুখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, নেত্রীর এই হুঁশিয়ারির পর দলের অন্দরের সমীকরণ কী বদলায়।