ভোটের আগে ফিরে দেখা: বাংলার বিধানসভায় কীভাবে বদলেছে ক্ষমতার অলিন্দ? ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতায় রোমাঞ্চকর তথ্য মূল প্রতিবেদন

দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে যখন পাড়ায় পাড়ায় চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন একবার পিছন ফিরে তাকানো জরুরি। ব্রিটিশ আমলের ১৯৩১ সাল থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬— প্রায় ৯৫ বছরের এই যাত্রা পথটি ছিল ভাঙা-গড়া আর অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী।
১৯৩১: নতুন ভবনের সূচনা আজ আমরা যে গম্বুজাকৃতি বিধানসভা ভবনটি দেখি, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রান্সিস স্ট্যানলি জ্যাকসন এই ভবনের উদ্বোধন করেন। এর আগে কাউন্সিল বা সভার বৈঠক বসত কলকাতার টাউন হলে। ১৯২৮ সালে এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক বাঁকবদল (১৯৩৭-১৯৪৭):
-
১৯৩৭: ভারত শাসন আইন (১৯৩৫) অনুযায়ী প্রথম নির্বাচন হয়। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন পদবি) হিসেবে দায়িত্ব নেন।
-
১৯৪৬: দেশভাগের ঠিক আগের নির্বাচন। মুসলিম লিগ এবং কংগ্রেসের প্রবল লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল এই কক্ষ।
-
১৯৪৭: দেশভাগের পর তৈরি হল ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা’। ৯০ জন সদস্য নিয়ে শুরু হয় স্বাধীন ভারতের প্রথম পথচলা।
স্বাধীনোত্তর পর্ব ও পালাবদল: স্বাধীন ভারতে বিধানসভা ভবনের সেই লাল কার্পেটে পা রেখেছেন দিকপাল সব নেতারা।
-
কংগ্রেস জমানা: বিধান রায়ের গঠনমূলক সময় থেকে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের উত্তাল দিনগুলি।
-
বাম জমানা (১৯৭৭-২০১১): টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বিধানসভা। জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য— এই অলিন্দ থেকেই পরিচালিত হয়েছে বাংলার দীর্ঘতম রাজনৈতিক অধ্যায়।
-
তৃণমূল জমানা (২০১১-বর্তমান): ২০১১ সালের সেই ঐতিহাসিক ক্ষমতা বদল বা ‘পরিবর্তন’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যা টানা তিনটি টার্ম ধরে চলছে।
২০২৬-এর গুরুত্ব: আগামী ২০২৬-এর নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং ১৯৩১ সাল থেকে চলে আসা এই সংসদীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্যের একটি বড় মাইলফলক। আবারও সেই একই অলিন্দে লড়াই হবে নতুন নীতির, নতুন প্রতিশ্রুতির।
কেন এই ইতিহাস জানা জরুরি? বিধানসভার প্রতিটি দেওয়াল কথা বলে। এখানে বিল পাস হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে, আবার কখনও হয়েছে তুমুল হট্টগোল। কিন্তু দিনশেষে এটিই বাংলার কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের পীঠস্থান। ইতিহাসের এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলা এখন ২০২৬-এর নতুন জনাদেশের অপেক্ষায়।