সংসদে হারের পর রুদ্রমূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী! আজ রাত সাড়ে ৮টায় কোন বিশেষ বার্তা? টানটান উত্তেজনায় দেশ

দেশজুড়ে ফের একবার ‘রাত সাড়ে আটটা’র আতঙ্ক না কি নতুন কোনো চমক? লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ) মুখ থুবড়ে পড়ার পর আজ শনিবার রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন জল্পনা তুঙ্গে।

কেন এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?

অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রধানমন্ত্রী যখনই রাতের দিকে বিশেষ ভাষণের ডাক দিয়েছেন, তখনই বড় কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে।

  • নোটবন্দি: ২০১৬-র সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার সময়ও মোদি রাতের ভাষণে চমক দিয়েছিলেন।

  • লকডাউন: করোনাকালে দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণাও এসেছিল এই একই ভঙ্গিতে।

স্বভাবতই, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সংসদে হারের পর আজ রাতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের বিরুদ্ধে কোনো বড় রাজনৈতিক চাল চালবেন না কি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিল নিয়ে শাসক-বিরোধী সংঘাতের চরম সীমা

শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে থাকলেও, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি পাশ হয়নি। এর পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি:

  • বিজেপির দাবি: অমিত শাহ থেকে স্মৃতি ইরানি— সকলেই একযোগে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে ‘নারী-বিরোধী’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁদের দাবি, কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা মহিলাদের উন্নয়ন চায় না।

  • রাহুল গান্ধীর পাল্টা চাল: তামিলনাড়ুর জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, “এই বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ছক ছিল মোদি সরকারের। আমরা সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছি।”

মোদি কি নতুন অস্ত্র বের করবেন?

সূত্রের খবর, আজকের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বোঝাতে পারেন কেন এই বিল পাশ হওয়া জরুরি ছিল এবং কারা এর পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াল। লোকসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে মহিলাদের সমবেদনা আদায় এবং বিরোধীদের কোণঠাসা করতে এই ভাষণ মোদির জন্য এক মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেন্দ্র আপাতত এই সংক্রান্ত বাকি আইন নিয়ে আর এগোবে না। অর্থাৎ বল এখন প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। আজ রাত সাড়ে ৮টায় তিনি কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।