লালগড়ে কি ফিরছে লাল ঝান্ডা? ১৫ হাজারের লিড মুছে দিতে অর্জুনের হুঙ্কার, ঘুম ছুটল তৃণমূলের!

জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে কি তবে চাকা ঘুরতে শুরু করেছে? একসময়ের খাসতালুক তথা ‘লালদুর্গ’ হিসেবে পরিচিত লালগড়ের ধরমপুরে ফের দাপট দেখাতে শুরু করেছে বামেরা। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পাওয়া বিশাল লিডকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নির্বাচনী ময়দান কাঁপাচ্ছেন সিপিআইএম প্রার্থী অর্জুন মাহাতো।
তৃণমূলের ১৫ হাজারের লিড কি বিপদে?
গত বিধানসভা নির্বাচনে এই লালগড় এলাকা থেকেই প্রায় ১৫ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিল শাসকদল তৃণমূল। কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সেই সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে মরিয়া বামপন্থীরা। ঝাড়গ্রাম বিধানসভার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় অর্জুন মাহাতোর মিছিলে ভিড় দেখে এখন নতুন করে হিসেব কষতে বসছে রাজনৈতিক মহল।
বামেদের তুরুপের তাস ‘দুর্নীতি’ ও ‘বঞ্চনা’
ধরমপুরের অলিতে-গলিতে নিবিড় জনসংযোগ করার সময় অর্জুন মাহাতোর নিশানায় ছিল তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষই। তাঁর আক্রমণের মূল বিষয়গুলি হলো:
-
রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি ও আবাস যোজনার অনিয়ম।
-
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নীতি।
-
স্থানীয় আদিবাসী ও কুড়মি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা।
অর্জুন মাহাতোর সাফ কথা, “শাসক ও বিরোধী—দুই দলই দুর্নীতির পাঁকে ডুবে আছে। সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা, তাই তাঁরা ফের লাল ঝান্ডার ওপর ভরসা রাখছেন।”
জঙ্গলমহলের ‘টক অফ দ্য টাউন’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লালগড় যদি সত্যি বামেদের দিকে ঘোরে, তবে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের সামগ্রিক ফলাফলে বড়সড় চমক আসতে পারে। শাসকদলের সেই ১৫ হাজারের লিড ধরে রাখা বনাম বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর এই লড়াই এখন জঙ্গলমহলের চায়ের দোকানের প্রধান আলোচনার বিষয়।
উন্নয়নের বিকল্প দিশা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্জুন যেভাবে আদিবাসী ও কুড়মি ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর চেষ্টা করছেন, তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ঘাসফুল শিবিরের। শেষ পর্যন্ত লালগড় কার দখলে থাকে, সেটাই এখন দেখার।