“মমতাদি অসমে গেলে বহিরাগত হন না কেন?” কোচবিহারে দাঁড়িয়ে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিমন্তর!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের মাটি কামড়ে লড়াই শুরু করল বিজেপি। শনিবার কোচবিহারের জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মমতার চিরাচরিত ‘বহিরাগত’ তকমা নিয়ে এদিন পালটা প্রশ্ন তুলে কোচবিহারের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে তুললেন তিনি।
🔥 “এই দ্বিচারিতা চলবে না”
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতাদের ‘বাইরের লোক’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তার জবাবে হিমন্ত এদিন বলেন, “মমতাদি নিজে যখন অসমে যান, তাঁর দল তৃণমূল যখন সেখানে গিয়ে ভোট লড়ে—তখন কি তিনি বহিরাগত হন না? অসমে গিয়ে প্রচার করবেন আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গে বহিরাগত বলবেন, এই দ্বিচারিতা মানুষ মেনে নেবে না।” হিমন্তর এই মন্তব্যের পরই সভাস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
🙏 “ঈশ্বরের চেয়েও মোদী-শাহের নাম বেশি মুখে”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আক্রমণকে কটাক্ষ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী এক বিচিত্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঈশ্বরের নামের চেয়েও সারাদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নাম বেশি উচ্চারণ করেন। ওঁর মুখে শুধু অভিযোগ আর ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা। উন্নয়নের কথা না বলে সারাক্ষণ শুধু মোদী-মোদী করে যান!”
🧱 অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত ইস্যু
অসম বনাম পশ্চিমবঙ্গ—অনুপ্রবেশ নিয়ে দুই রাজ্যের ফারাক বুঝিয়ে দিতে গিয়ে হিমন্ত বলেন, “আমি অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। একজন ঢুকলে রাতারাতি তাড়ানোর হিম্মত দেখাই। কিন্তু মমতাদি ঠিক উলটো, তিনি তাঁদের বরণ করে নেন।” পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও এদিন কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
কোচবিহারের এই জনসভা থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি আসনে এক ইঞ্চি জমিও তৃণমূলকে ছাড়তে রাজি নয় পদ্ম শিবির। হিমন্তর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার।