রাত-দুপুরে চলন্ত ট্যাক্সিতে চরম বিভীষিকা! কলকাতার নামী রাস্তায় যুবতীর সর্বস্ব লুট, শিউরে উঠবে শহরবাসী

তিলোত্তমায় ফের রাতের নিরাপত্তায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। এবার খাস কলকাতার হো-চি-মিন সরণিতে চলন্ত ট্যাক্সির ভেতরেই এক যুবতীকে হেনস্থা ও লুটের অভিযোগ উঠল। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শহরের কূটনৈতিক এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতা দেখিয়ে অভিযুক্ত ট্যাক্সি চালক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার জন্য হো-চি-মিন সরণি থেকে একটি হলুদ ট্যাক্সি ভাড়া করেছিলেন ওই যুবতী। অভিযোগ, কিছুটা যাওয়ার পরেই ট্যাক্সি চালক হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে তার এক পরিচিত ব্যক্তিকে ট্যাক্সিতে তুলে নেয়। যুবতী এতে প্রবল আপত্তি জানালেও চালক তা কানে তোলেনি। এরপরই শুরু হয় আসল তাণ্ডব।
চলন্ত গাড়িতেই লুটপাট:
অভিযোগকারিনী জানিয়েছেন, চলন্ত ট্যাক্সির ভেতরেই তাঁকে ভয় দেখিয়ে তাঁর ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং জরুরি নথিপত্র ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যুবতী। কোনওরকমে নিরাপদ স্থানে নেমে তিনি দ্রুত শেক্সপিয়ার সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশি অ্যাকশন ও গ্রেফতারি:
অভিযোগ পাওয়ামাত্রই নড়েচড়ে বসে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ। শহরের একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে ট্যাক্সিটিকে চিহ্নিত করা হয়। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত চালক ও তার সঙ্গীকে পাকড়াও করে পুলিশ। ছিনতাই হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ:
হো-চি-মিন সরণির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে ভয় দানা বাঁধছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপ-ক্যাব বা সাধারণ ট্যাক্সি চালকদের পুলিশ ভেরিফিকেশন আরও কড়া হওয়া প্রয়োজন।
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাতের শহরে নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়ানো হবে।