ভোটাধিকার নিয়ে হাহাকার! সুপ্রিম রায়ের পরেও জোকায় ফিরতে হলো খালি হাতে, ৩৪ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ কী?

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেও কাটল না ‘ডিলিটেড’ বা তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের (Deleted Voters) ভাগ্য-বিড়ম্বনা। ট্রাইবুনালে আবেদন এবং শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিয়মাবলি সামনে না আসায় বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার জোকার ট্রাইবুনাল দপ্তরে কয়েক হাজার মানুষ নিজেদের নাম ফেরানোর আশায় পৌঁছালেও, ঢুকতে না পেরে শেষমেশ চোখের জলেই ফিরলেন তাঁরা।
আদালতের রায়ের পর কেন এই গোলমাল?
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বিচারাধীন ডিলিটেড ভোটারদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল। সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন এবার হয়তো দ্রুত সমাধান হবে। কিন্তু শুক্রবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। জোকা ট্রাইবুনাল দপ্তরে এদিন কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আইনজীবীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বহরমপুর থেকে আসা কোয়েল ঠাকুর বা অজয় পালের মতো অসংখ্য মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে গিয়েছেন। তাঁদের আবেদন আদৌ শোনা হবে কি না, তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
কমিশনের অসহায়তা ও তথ্যের অভাব:
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ট্রাইবুনালের কাজকর্ম সম্পূর্ণ আলাদা এবং তা নির্বাচন কমিশনের আওতায় পড়ে না। ফলে কতজনের আবেদন মিটেছে বা কতজন তালিকায় ফিরলেন, তার কোনো সঠিক তথ্য বা ড্যাশবোর্ড কমিশনের কাছেও নেই। সুপ্রিম কোর্ট এই তথ্য জানতে চাইলেও আপাতত ধোঁয়াশা কাটেনি।
পরিসংখ্যানের ভয়ংকর ছবি:
বিচারাধীন তালিকা: কমিশনের হিসাবে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার নাম তালিকায় ঝুলে রয়েছে।
ট্রাইবুনালে আবেদন: মোট আবেদনের সংখ্যা ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিচারপতির সংখ্যা: মাত্র ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি এই বিপুল পরিমাণ (প্রায় ৩৪ লক্ষ) আবেদনের নিষ্পত্তি করবেন।
ভবিষ্যৎ কী?
এত কম সময়ের মধ্যে ১৯ জন বিচারপতি কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে হাইকোর্টেও মামলা হয়েছে। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়েছেন, ট্রাইবুনাল আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, এই ২৭ লক্ষ ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা ততই বাড়ছে।