পাহাড় কার? ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে দার্জিলিংয়ের সিংহাসন দখলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের টানটান উত্তেজনা

হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শান্ত দার্জিলিং এখন রাজনীতির উত্তাপে তপ্ত। সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। আগামী ২৩শে এপ্রিল পাহাড়ের তিনটি (দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং) এবং সমতলের তিনটি (শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি) আসনে ভোটযুদ্ধ। ২০১১ সাল থেকে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, দার্জিলিং আজও তৃণমূলের কাছে এক দুর্ভেদ্য দুর্গ।

পাহাড়ে কেন অজেয় বিজেপি?
২০১৪ সাল থেকে সংসদীয় নির্বাচন হোক বা ২০২১-এর বিধানসভা— দার্জিলিং বরাবরই গেরুয়া শিবিরের দিকে পাল্লা ঝুঁকিয়ে রেখেছে। মূলত গোর্খা দলগুলোর ওপর বিজেপির শক্ত হাত এবং কেন্দ্রীয় স্তরে সমর্থনের আশ্বাসই এই আধিপত্যের মূল চাবিকাঠি। আরএসএস (RSS)-এর দীর্ঘদিনের নিভৃত কাজ এবং পাহাড়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গড়ে তোলা মজবুত নেটওয়ার্ক তৃণমূলের জন্য পাহাড় জয় কঠিন করে তুলেছে।

মমতার ভরসা অনিত, বিজেপির তাস ‘স্থায়ী সমাধান’
এবারের নির্বাচন গোর্খা সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে:
১. তৃণমূল সমর্থিত অক্ষ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও ভরসা রাখছেন অনিত থাপার নেতৃত্বাধীন বিজিপিএম (BGPM)-এর ওপর।
২. বিজেপি জোট: দীর্ঘদিনের গোর্খা দলগুলোর সমর্থনে নিজেদের গড় ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি।
৩. নতুন শক্তির উত্থান: ময়দানে নেমেছে নতুন দল আইজিজেএফ (IGJF), যা লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গোর্খাল্যান্ড ও অবিশ্বাসের রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোর্খা দলগুলোর একটি বড় অংশ এখনও রাজ্য সরকারের চেয়ে কেন্দ্রের শাসক দলের ওপর বেশি নির্ভরশীল। পৃথক গোর্খা রাজ্যের দাবি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর প্রতিশ্রুতি আজও গোর্খা ভোটারদের কাছে বড় হাতিয়ার। পাহাড়ের দলগুলোর একাংশের দাবি, তারা বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না, যা প্রকারান্তরে বিজেপিকেই সুবিধা করে দিচ্ছে।

২৩শে এপ্রিল পাহাড়ের মানুষ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবেন নাকি পৃথক সত্তার লড়াইয়ে অনড় থাকবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।