কিস্তিতে সোনা কেনা কি সত্যিই লাভের? গয়না ব্যবসায়ীদের স্কিমে বিনিয়োগের আগে এই ৫টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখুন

এককালীন বড় অঙ্কের টাকার বোঝা ছাড়াই নিজের পছন্দের গয়না ঘরে তোলার এক জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ‘গোল্ড সেভিংস স্কিম’ বা কিস্তিতে সোনা কেনা। সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি দারুণ সুযোগ মনে হলেও, এর খুঁটিনাটি না বুঝলে আখেরে আপনার লোকসান হতে পারে। বিনিয়োগের আগে কোন বিষয়গুলো আপনার জানা জরুরি? জেনে নিন বিস্তারিত:

১. স্কিমটি ঠিক কীভাবে কাজ করে?
বেশিরভাগ গয়না বিক্রেতা ১০ বা ১১ মাসের মাসিক কিস্তির সুযোগ দেন। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে জমানো টাকা দিয়ে আপনি সোনা কিনতে পারেন। অনেক সময় বিক্রেতারা লোভনীয় অফার হিসেবে এক মাসের কিস্তি মকুব বা ‘বোনাস’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

২. আজকের দামে সোনা বুকিং নয়!
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো মানুষ মনে করে তারা বর্তমান দামেই সোনা নিশ্চিত করছে। আসলে কিন্তু আপনি কেবল টাকা জমা রাখছেন। সোনার দাম কত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে আপনি যেদিন গয়নাটি কিনবেন—স্কিম শুরু করার দিনে নয়। অর্থাৎ, মেয়াদ শেষে সোনার দাম বেড়ে গেলে আপনাকে চড়া দামেই কিনতে হবে।

৩. মেকিং চার্জ বা গয়না তৈরির খরচের ফাঁদ
অনেক স্কিমে ‘মেকিং চার্জ’ বা গয়না তৈরির মজুরিতে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, এই ছাড় সাধারণত সব ডিজাইনের ওপর প্রযোজ্য হয় না। বিশেষ কিছু ডিজাইনের ক্ষেত্রে হয়তো আপনাকে পুরো মজুরিই দিতে হতে পারে, যা আপনার বাজেট বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. কিস্তি মিস করলে বা মাঝপথে ছেড়ে দিলে বিপদ
এই স্কিমগুলো অত্যন্ত কঠোর নিয়মে চলে। যদি আপনি কোনো মাসের কিস্তি দিতে ভুলে যান বা মাঝপথে বন্ধ করে দেন, তবে প্রতিশ্রুত বোনাস বা ছাড়ের সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে। এমনকি কেনাকাটা সম্পন্ন না করলে জমানো টাকা ফেরত পেলেও বোনাস অংশটি আপনি পাবেন না।

৫. এটি কখন সত্যিই উপকারী?
যদি আপনার সামনে কোনো বিয়ে বা বড় উৎসব থাকে এবং আপনি আগে থেকেই জানেন যে আপনি নির্দিষ্ট কোনো দোকান থেকে গয়না কিনবেন, তবে এটি টাকা জমানোর একটি সুশৃঙ্খল উপায়। কিন্তু আপনি যদি একে বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন বা সোনার দাম কমবে বলে আশা করেন, তবে এটি ততটা কার্যকর নাও হতে পারে।

বিনিয়োগের আগে চেকলিস্ট:

বোনাস গণনার পদ্ধতি বুঝে নিন।

মেকিং চার্জের ওপর ডিসকাউন্ট পাওয়ার শর্তগুলো যাচাই করুন।

পেমেন্ট করতে ব্যর্থ হলে বা মেয়াদের আগে বের হয়ে গেলে কী হবে, তা জেনে নিন।